২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য,বিদেশি বিনিয়োগে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৬-০৭-২৩ ১৬:৫২:১২
image

বাংলাদেশকে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নীতি, আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোয় ধারাবাহিক সংস্কার করছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প, ইলেকট্রনিক পণ্য, ডিজিটাল সেবা, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতে বৈচিত্র্য আনা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। দেশীয় কিংবা বিদেশি—যে কোনো বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও সময়োপযোগী নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার ক্ষেত্র আরও বড়। দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপ্রাপ্ত সরকার দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা জোরদার, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, কর ও মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থার সংস্কার, বিরোধ নিষ্পত্তি সহজীকরণ এবং অর্জিত মুনাফা বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করা, নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা, সরকারি সেবাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করা এবং বন্দর, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও আস্থাভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপরও নির্ভরশীল। তিনি দেশি-বিদেশি ব্যবসায়িক নেতাদের এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, উদ্যোক্তার দক্ষতার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধিবান্ধব সরকারি নীতিমালাই একটি ব্যবসার সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ী নেতারা।
অনুষ্ঠানে বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয় এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশসংবলিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বিনিয়োগ, অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি