পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। একই তিনি সঙ্গে পলিথিনের ব্যবহার কমানো, ড্রেন-খাল পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণেও সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ ফোরামের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাঁচ বছরব্যাপী দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, পরিবেশ ভালো রাখতে এবং দূষণ থেকে রক্ষা করতে ব্যাপকভাবে গাছ লাগাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, যা পরিবেশ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে ঢাকা শহরসহ সারা দেশে যেভাবে নির্বিচারে গাছ কাটা হয়েছে, তার নেতিবাচক প্রভাব পরিবেশের ওপর পড়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এখন ব্যাপক বৃক্ষরোপণ জরুরি। ঢাকা এখন কংক্রিটের শহরে পরিণত হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি মাটিতে শোষিত হওয়ার সুযোগ কমে গেছে। একই সঙ্গে খাল-বিল ভরাট ও দখলের কারণে বৃষ্টির পানি ধারণের সক্ষমতাও নষ্ট হয়েছে। তাই খাল-বিল দখলমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করতে হবে।
রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া হলেও তা সমাধানে কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে ঢাকা শহরকে সাজাতে চান, সে অনুযায়ী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজক জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ ফোরামকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে মাঠে নামতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ড্রেন পরিষ্কার, বিদ্যুৎ ও সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। জনগণের সঙ্গে থেকে তাদের সমস্যার সমাধানে বিএনপির নেতাকর্মীরা কাজ করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলো রক্ষা করাও জরুরি। রাজধানীর আইল্যান্ড ও সড়ক বিভাজনে লাগানো গাছের পরিচর্যায় আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সামনে ড্রেন ও রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, পলিথিন বর্তমানে বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। পলিথিন ড্রেন বন্ধ করে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে। তাই পলিথিনের ব্যবহার কমাতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তা রাস্তায় বা ড্রেনে ফেলা যাবে না।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ি, অফিস—আদালত বা আশপাশে তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে।
ডিএসসিসি প্রসাশক আরো বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করলে ঢাকা শহরকে আরও বাসযোগ্য করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিও কমবে। কারণ ডেঙ্গুর কারণে মানুষের মৃত্যুও হচ্ছে। তাই নিজেকে নিরাপদ রাখতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সামাজিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ ফোরাম সভাপতি মনজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রফিক, জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন (জিসফ) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ—সভাপতি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, (জিসফ) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেল রানা, মোঃ নোমান হোসেন, (জিসফ) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্থ বিষয়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, যুব বিষয় সম্পাদক বরকত পাটোয়ারী, প্রচার সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন মানিক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নুর ইসলাম, (জিসফ) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া, মোঃ মনির হোসেন, (জিসফ) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শেখ শহীদ, যুগ্ম—আবায়ক মোঃ আবু সায়েদ, মোঃ রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ এম এ খায়ের, জিসফ ঢাকা মহানগর উত্তর কাফরুল থানার সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মোঃ মামুন হাওলাদার, মতিঝিল থানা বিএনপি'র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ হানিফ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আনোয়ার হোসেন, রূপালী ব্যাংক সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম হোসেন, জাতীয়তাবাদী হকার্স দল মতিঝিল থানা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, যুবদল নেতা মোহাম্মদ বেলাল হোসেন সহ প্রমুখ।