এফওপিএল নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্তের আহ্বান,নীতি পর্যালোচনায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর

  • সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
  • ২০২৬-০৭-২০ ১৭:৪৪:০০
image

অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণজনিত অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের সচেতন খাদ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন অংশীজনের প্রতিনিধিরা।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের আয়োজনে এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কারিগরি সহযোগিতায় "স্ট্রেংথেনিং দ্য কোয়ালিশন ফর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং অ্যাডভোকেসি ইন বাংলাদেশ" শীর্ষক কর্মশালায় এ আহ্বান জানানো হয়। কর্মশালায় নীতি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় কোয়ালিশনের অগ্রাধিকার, প্রমাণভিত্তিক অ্যাডভোকেসি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস । অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহসানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উপ-পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান। স্বাগত বক্তব্যে মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ অতিথি মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বাংলাদেশে এফওপিএল অ্যাডভোকেসির বর্তমান অগ্রগতি, অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে নীতিমালা বাস্তবায়নে অংশীজনদের ধারাবাহিক ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথি অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব এফওপিএল রেগুলেশনের যাত্রা, সর্বশেষ অগ্রগতি, বাস্তবায়নের সুযোগ এবং বাংলাদেশ ফুড সেইফটি অথরিটি অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ভোক্তাদের সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে খাদ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কার্যকর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিয়ে কাজ করছে। কারিগরি অধিবেশনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ড. আহমাদ খায়রুল আবরার বাধ্যতামূলক এফওপিএলকে ঘিরে সাম্প্রতিক কার্যক্রম, প্রতিক্রিয়া এবং নীতিগত অ্যাডভোকেসিতে সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি জনস্বার্থভিত্তিক নীতিনির্ধারণে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরবর্তী আলোচনা পরিচালনায় সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম নীতি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় কোয়ালিশনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, প্রমাণভিত্তিক যোগাযোগ এবং সমন্বিত অ্যাডভোকেসি কৌশল শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সমাপনী পরিকল্পনা অধিবেশনে পলিসি এক্সপার্ট তাইফুর রহমান কোয়ালিশনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ এবং আগামী দিনের অ্যাডভোকেসির সুযোগ তুলে ধরেন। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নীতি পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় প্রমাণভিত্তিক অ্যাডভোকেসি জোরদার, গণমাধ্যম ও যুবসমাজের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা খাদ্য শিল্পের বিভিন্ন প্রচারণার বিপরীতে জনস্বার্থভিত্তিক তথ্য ও প্রমাণকে সামনে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। কর্মশালার সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা বাধ্যতামূলক এফওপিএল নীতিমালার দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ, প্রমাণভিত্তিক যোগাযোগ এবং সমন্বিত অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।