'প্রকৃতির গোয়েন্দারা'
বন্ধুরা,আজ থেকে আমাদের গল্পে আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ হলো। এখন প্রতিটি রহস্য এক পর্বেই শেষ হবে না। কিছু অভিযান ২-৩ পর্ব ধরে চলবে।
এখানে রাহি, অরণ, শিসু ও বটদাদু-তারা কোনো অপরাধের গোয়েন্দা নয়,বরং প্রকৃতির রহস্যের অনুসন্ধানী। কেন পাখি কমে যাচ্ছে,কেন একটি পুকুর শুকিয়ে যাচ্ছে,কেন একটি গাছ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ছে-এসব রহস্যের উত্তর তারা খুঁজবে বিজ্ঞান,পর্যবেক্ষণ এবং মানবিকতার মাধ্যমে।
আজকের ৩১তম পর্বটি সেই নতুন যাত্রার সূচনা।
রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
পর্ব-৩১:
সকালের আলো ফুটতেই রাহি একটি অদ্ভুত খবর শুনল।
গ্রামের পশ্চিমপাড়ার পুরোনো পুকুরটিতে নাকি আর ব্যাঙের ডাক শোনা যায় না।
অরণ দ্রুত এসে বলল,
-'চলো, আজই দেখে আসি।'
শিসু ছোট্ট একটি খাতা আর পেন্সিল হাতে নিয়ে দৌড়ে এল।
-'আজ থেকে আমি সব রহস্য লিখে রাখব!'
তিন বন্ধু পুকুরপাড়ে পৌঁছে থমকে দাঁড়াল।
পুকুরের পানি আছে,শাপলাও আছে।
কিন্তু চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা।
না ব্যাঙের ডাক।
না ফড়িংয়ের ঝাঁক।
না পানির ওপর লাফিয়ে ওঠা ছোট মাছ।
রাহি ধীরে বলল,
-'কিছু একটা ঠিক নেই।'
ঠিক তখনই বাতাসে পুরোনো কদমগাছের ডাল দুলে উঠল।
বটদাদুর শান্ত কণ্ঠ ভেসে এলো,
-'প্রকৃতির নীরবতাও এক ধরনের ভাষা। যে শুনতে জানে,সে অনেক কিছু বুঝতে পারে।'
অরণ হাঁটু গেড়ে পানির দিকে তাকাল।
'পানি কেমন যেন ঘোলাটে।'
শিসু পুকুরের চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
-'দেখো! এখানে অনেক প্লাস্টিকের মোড়ক পড়ে আছে।'
আরও একটু এগোতেই তারা দেখল, পাশের একটি সরু নালা দিয়ে ময়লাযুক্ত পানি পুকুরে এসে পড়ছে।
রাহি খাতায় লিখল,
'প্রথম সূত্র-পুকুরে নোংরা পানি ঢুকছে।'
অরণ লিখল,
'দ্বিতীয় সূত্র-প্লাস্টিকের বর্জ্য।'
শিসু হেসে বলল,
-'তাহলে আমরা সত্যিই গোয়েন্দা হয়ে গেছি!'
বটদাদু বললেন,
-'গোয়েন্দা হওয়া মানে শুধু রহস্য খোঁজা নয়। সত্য খুঁজে বের করে সমাধানের পথ দেখানো।'
ঠিক তখনই একজন বৃদ্ধ জেলে সেখানে এলেন।
তিনি বললেন,
-'কয়েক বছর আগেও এই পুকুরে সন্ধ্যা হলেই ব্যাঙের ডাক শোনা যেত। এখন আর সেই শব্দ নেই।'
রাহি জিজ্ঞেস করল,
-'কেন এমন হলো?'
জেলে উত্তর দিলেন,
-'মানুষ ধীরে ধীরে পুকুরটাকে আবর্জনার জায়গা বানিয়ে ফেলেছে।'
তিন বন্ধু একে অপরের দিকে তাকাল।
রাহি দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
-'তাহলে আমাদের প্রথম অভিযান শুরু হলো। এই পুকুরকে আবার জীবন্ত করে তুলতে হবে।'
বটদাদু মৃদু হেসে বললেন,
-'আজ রহস্যের দরজা খুলেছে মাত্র। উত্তর পেতে হলে ধৈর্য,জ্ঞান আর ভালোবাসা-তিনটিই লাগবে।'
সূর্য তখন একটু ওপরে উঠেছে।
পুকুরের শান্ত পানিতে তার আলো পড়ছে।
রাহির মনে হলো,পুকুরটি যেন তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।
হয়তো সে অপেক্ষা করছে-কেউ একজন তার কথা শুনবে।
আজকের সবুজ প্রতিজ্ঞাঃ
আমি কোনো পুকুর,খাল বা জলাশয়ে ময়লা ফেলব না এবং জলজ প্রাণীর নিরাপদ আবাস রক্ষায় সচেতন থাকব।
সবুজ তথ্যঃ
ব্যাঙ, ফড়িং এবং অনেক ছোট জলজ প্রাণী একটি জলাশয়ের পরিবেশ সুস্থ আছে কি না, তার গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক নির্দেশক। এদের সংখ্যা হঠাৎ কমে গেলে বুঝতে হবে জলাশয়ের পরিবেশে কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে।