গাজা,সিরিয়া ও লেবাননের ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ছাড়ছে না ইসরাইল,যুক্তরাষ্ট্রকে জানাল কাটজ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-১৬ ২২:২৬:৪১
image

গাজা উপত্যকা, সিরিয়া ও লেবাননে গড়ে তোলা তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব এলাকায় সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ইসরাইলের এ অবস্থান তুলে ধরেন কাটজ। পরে তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে। কাটজের ভাষ্য, জঙ্গিগোষ্ঠীর হুমকি থেকে সীমান্ত এবং সীমান্তসংলগ্ন জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিজেদের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব অন্য কোনো দেশের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইল কখনোই নিজেদের সীমান্তে তাদের হয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেনি।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের মতে সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতি দেশটির পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। প্রতিবেদনে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘সেখানে আপনাদের উপস্থিতি তারা চায় না। সেনাদের অন্যত্র মোতায়েন করা উচিত।’
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর গোলান মালভূমিতে ইসরাইল ও সিরীয় বাহিনীর মধ্যবর্তী জাতিসংঘ তত্ত্বাবধানে থাকা বাফার এলাকায় সেনা মোতায়েন করে ইসরাইল। এরপর থেকে সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে একাধিক সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে দক্ষিণ সিরিয়ায় একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।
লেবাননেও এখনো ইসরাইলি সেনা অবস্থান করছে। দেশটির সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিরাপত্তা এলাকায় তাদের মোতায়েন রয়েছে।
ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও, চলতি বছরের মার্চে হিজবুল্লাহর হামলার পর সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার ইতালির রাজধানী রোমে এ সংক্রান্ত পঞ্চম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনায় দক্ষিণ লেবাননের দুটি পরীক্ষামূলক এলাকা থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গাজা উপত্যকার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি গাজা ও মিসরের সীমান্তজুড়েও তাদের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।

ইসরাইল, গাজা, লেবানন