প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে কাজ করছে এবং জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ। মানুষের জানমাল রক্ষা সরকার পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক জীবন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানান, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থই সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাবে।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্র ও সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে, অর্থনীতিতে সবাই অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে এবং প্রতিটি নাগরিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।
সম্প্রতি অনুমোদিত বাজেট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেট ঘোষণার পর বিভিন্ন স্বাধীন বিশ্লেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানও এটিকে জনকল্যাণমুখী হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। তবে বাজেটের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে সরকারি প্রশাসন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বহু জাতীয় বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক এই চর্চা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।
কৃষকদের সহায়তায় নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কল্যাণমূলক সেবা সম্প্রসারণে পর্যায়ক্রমে পরিবার পরিচয়পত্র, কৃষক পরিচয়পত্র, ক্রীড়া পরিচয়পত্র এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী কার্যক্রম চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব সুবিধা একটি সমন্বিত পরিচয়পত্রের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে উত্তরণই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ পরিকল্পনা সফল হলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতি বছর পাঁচ কোটি করে গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি ১০ হাজার নার্সারি গড়ে তুলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এদিন একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দুই লাখ চারা রোপণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্নীতি দমন এবং পাচার হওয়া অর্থ নিয়ন্ত্রণে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ এবং বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা এখন জাতীয় অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতির প্রতিটি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বুধবার বিকেল ৫টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। গত ৭ জুন শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনের আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আসরের নামাজের বিরতি শেষে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান তিনি। পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সমাপনী বক্তব্য দেন।
জবাবদিহি, জনকল্যাণ, বাজেট