উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিচ্ছাকৃত বিচ্যুতিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিলের দাবি

  • ​হাসান মেহেদী :
  • ২০২৬-০৭-১৫ ২২:২৬:০৭
image

​দৈনিক প্রথম আলো’র ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’-এর কিছু বিশেষ বিধান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)। সংগঠনটি এই বিতর্কিত বিধান বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।
​নতুন এই আইনে পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র অতি-মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের জন্য পরীক্ষককে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ এই বিধানকে দেশের শিক্ষক সমাজের জন্য অবমাননাকর ও হতাশাজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
​বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ভুল বা পক্ষপাতিত্বকে ‘প্রশাসনিক বা একাডেমিক অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, কোনোভাবেই তা ‘ফৌজদারি অপরাধ’ নয়। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল কিংবা ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতেও উত্তরপত্র মূল্যায়নের ভুলের জন্য কারাদণ্ডের বিধান নেই; সেখানে মূলত প্রশাসনিক, বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং আর্থিক শাস্তির প্রচলন রয়েছে।
​নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর বিদ্যমান বিধিমালায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে ত্রুটির জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। নতুন আইনে কারাদণ্ডের বিধান শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবে। এছাড়া, অতি-মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন বিষয়টি অনেকাংশেই আপেক্ষিক এবং এর সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। এই আইনের ফলে শিক্ষকগণ পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
​বাকবিশিস-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, উত্তরপত্রের মূল্যায়নে বড় ধরনের ব্যবধান (যেমন—২০ শতাংশের বেশি নম্বর পার্থক্য) পরিলক্ষিত হলে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে তা পুনরায় মূল্যায়ন করা যেতে পারে এবং সেক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
​পরিশেষে, শিক্ষকদের সম্মান ও পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় অনতিবিলম্বে উত্তরপত্র মূল্যায়নে ত্রুটির জন্য কারাদণ্ডের বিধান বাতিল করে বিষয়টি আগের মতোই প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার আওতায় রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।