স্পেনের দাপটে থামল ফ্রান্স, ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে লা রোজা

  • স্পোর্টস ডেক্স
  • ২০২৬-০৭-১৫ ০৯:১৬:৪০
image
বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। আর্লিংটনের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স ছিল একেবারেই অসহায়। অন্যদিকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল লেস ব্লুজদের। শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ, ছন্দ আর পরিকল্পিত আক্রমণে ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে রাখে স্পেন। রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও ডানি ওলমোর নেতৃত্বে স্প্যানিশ মিডফিল্ড এমন আধিপত্য বিস্তার করে যে, ফ্রান্সের তারকাখচিত আক্রমণভাগ পুরো ম্যাচেই নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে পারেনি। ২০ মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম গোল। লামিন ইয়ামালকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট-কিক থেকে কোনো ভুল না করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। গোল হজমের পর ফ্রান্স ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও এমবাপ্পে, ডেম্বেলে, বারকোলা কিংবা ওলিসে—কেউই স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ ভেদ করতে পারেননি। উল্টো প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফ্রান্সের সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবার চোট তাদের রক্ষণকে আরও দুর্বল করে তোলে। বিরতির পরও একই চিত্র। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে স্পেন। ৫৮ মিনিটে ডানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাসের পর পেড্রো পোরো নিখুঁত ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর লামিন ইয়ামালের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও স্পেনের জয় নিয়ে কোনো শঙ্কা তৈরি হয়নি। শেষ দিকে একাধিক পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। কিন্তু উনাই সিমনের দৃঢ় গোলকিপিং এবং স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেয়। এমবাপ্পের সেরা সুযোগটিও সিমনের অসাধারণ সেভে নষ্ট হয়ে যায়। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স সেমিফাইনালে এসে নিজেদের সেরা খেলাটি উপহার দিতে ব্যর্থ হয়। বিপরীতে স্পেন আবারও প্রমাণ করল, শুধু তারকার ঝলক নয়—শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা ও দলগত ফুটবলই বড় ম্যাচ জয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ফাইনালে উঠল। আর ফ্রান্সকে বিদায় নিতে হলো অপূর্ণ স্বপ্ন আর হতাশা নিয়েই।