দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধারে মহেশখালীতে জোর তৎপরতা,স্কুল স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে ইউএনও

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৭-১৪ ২৩:৪২:০৯
image

মহেশখালী (কক্সবাজার) 
টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মহেশখালীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধারে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা আরও জোরদার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা, স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক ইমরান মাহমুদ ডালিম।
দিনের শুরুতে তিনি উপজেলার জোড়াপুকুর পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় মহেশখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুন্সিরডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেরুনতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জোড়াপুকুর পাড় কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কতটা স্বাভাবিক হয়েছে, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় প্রতিটি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, অবকাঠামোর অবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, পাঠদানে কোনো বিঘ্ন না ঘটানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন ইউএনও।
পরে জোড়াপুকুর পাড় কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক অবস্থা, চিকিৎসাকর্মীদের উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত, রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন। স্বাস্থ্যসেবা যাতে কোনো অবস্থাতেই ব্যাহত না হয় এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত চিকিৎসাসেবা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সচল রাখা সরকারের অগ্রাধিকার। এ কারণে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের মাধ্যমে সমস্যা শনাক্ত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাস এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই দিনে মহেশখালী পৌরসভা এলাকায় বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০টি পরিবারের মাঝে সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়। ইউএনও ও পৌর প্রশাসক ইমরান মাহমুদ ডালিম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এ সহায়তা তুলে দেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
ত্রাণ বিতরণকালে তিনি বলেন, "দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষকে একা রেখে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা সমন্বিতভাবে খাদ্য সহায়তা, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।"
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেখানেই প্রয়োজন হবে, সেখানেই দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক দুর্যোগে মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পানি নেমে যাওয়ার পর প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণের ফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে শুরু করেছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।