মহেশখালীতে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৭-১৩ ২৩:০১:১২
image

মহেশখালী (কক্সবাজার)
মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী বাজারে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গ্রেপ্তারকৃত এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা ও কুতুবজোম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী শফিউল আলমকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৩০–৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 
পুলিশ বলছে, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মহেশখালী থানার পিএসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ ইকবাল বাদী হয়ে দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে মহেশখালী থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৮৬, ২২৪, ২২৫, ৩৩২, ৩০৭ ও ৩৫৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাতঃ-মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহেশখালী থানার বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ওয়ারেন্টভুক্ত ও পলাতক আসামি মো. আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী বাজারে অভিযান পরিচালনা করে। বাজারের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
পুলিশের অভিযোগ, ওই সময় সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী শফিউল আলমের নেতৃত্বে একদল লোক পুলিশের কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কনস্টেবল তানভীর হোসেন আহত হন। হামলার সুযোগে গ্রেপ্তারকৃত আবুল কাশেমকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের উদ্ধার করে এবং আহত কনস্টেবলকে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
মামলায় যাদের নামঃ- মামলায় মৌলভী শফিউল আলম, মো. আবুল কাশেম, মঈনউদ্দিন গাদ্দাফি, ইমরান সানজু, মোহাম্মদ জাফর, মোহাম্মদ সোলতান, মো. আরিফ উল্লাহ, আবদুল আলম, নেছার উদ্দিন, মোহাম্মদ হেলাল, তাহসির ইসলাম তুষার, মো. আবছার, মো. বাবুল, আলম মাঝি, সৈয়দুল হক ও খোকন দে-সহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০–৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুইজন গ্রেপ্তার, অভিযান চলছে-
মামলার বাদী পিএসআই মোহাম্মদ ইকবাল জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি-
ঘটনার পর কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী বাজার ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য মেলেনি,মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী শফিউল আলম কিংবা অন্য কোনো আসামির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে মামলায় নতুন তথ্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।