টানা বৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেছা হল, কুয়েত মৈত্রী হল, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল-সহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ জলাবদ্ধ স্থানগুলো পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করছেন।
১। শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ট্রিপ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কুয়েত মৈত্রী হল এবং ফজিলাতুন্নেছা হলের সম্মুখে পারাপারের জন্য ৪টা ভ্যান ডাকসুর পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে সেবা নিতে পারে।
২। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের জন্য ডাকসুর উদ্যোগে জেনারেটরের মাধ্যমে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মোমবাতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
৩। শিক্ষার্থীদের জন্য ডাকসুর উদ্যোগে সুপেয় পানি ও শুকনো খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ওয়াসার মাধ্যমে দুই গাড়ি পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৪। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্টেট অফিস ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট টিমকে মাঠে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৫। চলমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বিভাগ ও পরীক্ষা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতি বছর একইভাবে জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ডাকসু এর আগেও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্থায়ী পানি নিষ্কাশন এবং একটি কার্যকর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য সিটি করপোরেশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে জানালেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠেও কোমর পর্যন্ত পানি জমে আছে। মাঠের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রায় দুই কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়ে এসেছে ডাকসু। কিন্তু অর্থ বরাদ্দের পরও প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ডাকসুর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডাকসু নেতৃবৃন্দ।