মহেশখালী (কক্সবাজার)
মহেশখালী উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের দায়ে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) রাত প্রায় ৯টার দিকে মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের নতুন বাজার মিয়াজীর পাড়া এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মহেশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু জাফর মজুমদার। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন।
অভিযান চলাকালে সাইফুল ইসলাম (২৬) নামের এক যুবককে গাঁজা এবং চার পিস ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। সাজা ঘোষণার পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহেশখালীতে মাদকের বিস্তার রোধে উপজেলা প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। মাদক সেবন, বহন, বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নিয়মিত অভিযানের ফলে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মাদকের কারণে পরিবার, সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই নিয়মিত অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মহেশখালীকে মাদকমুক্ত করতে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে মাদকের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।