বাবার শখের বঁড়শিটা আজও আছে
ঘরের আলো-কম এক কোণে।
পিতলের হুইলে বিকেলের রোদ এসে পড়ে,
পুরোনো হাতলে লেগে থাকে
জল, সময়, আর বাবার আঙুলের ক্ষয়।
ওটা হাতে নিলেই মনে হয়,
এইমাত্র বাবা উঠলেন নদীর ধার থেকে।
সুতো এখনো পুরো গোটানো হয়নি,
হুইলের গায়ে কোথাও কোথাও
তার আঙুলের উষ্ণতা রয়ে গেছে যেন।
যেন একটু পরেই
আবার বসবেন তিনি,
বঁড়শির ডগা দেখে নেবেন,
সন্ধ্যার আগে জলের কাছে যাবেন।
বাবা খুব ধীরে সুতো গুটাতেন।
তাকে দেখে মনে হতো,
তিনি মাছ ধরতে নয়,
জলের নীরবতা ছুঁতে যাচ্ছেন।
নত মুখে বসে থাকতেন,
আর বিকেলের আলো
চুপচাপ নেমে আসত তার গায়ে।
এখন তিনি নেই বহুদিন।
তবু বঁড়শিটা ছুঁলেই
ঘরের ভিতর নদীর গন্ধ জেগে ওঠে।
আমি পিতলের হুইলে আঙুল রাখি,
আর মনে হয়,
আমি কোনো বঁড়শি ছুঁয়ে নেই...
ছুঁয়ে আছি বাবার ফেলে যাওয়া বিকেল,
জলের দিকে নত হয়ে থাকা
এক নীরব মানুষকে,
যিনি চলে গিয়েও
এই পিতলের হুইলে
এখনো একটু থেকে গেছেন।