দুর্যোগে মানুষের পাশাপাশি কৃষকের পাশে উপজেলা প্রশাসন মহেশখালী

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৭-১২ ২৩:০৮:৩৬
image

মহেশখালী  (কক্সবাজার)  
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ,জলাবদ্ধতা এবং দুর্যোগের প্রভাবে মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ও কৃষি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে পানি জমে থাকায় অনেক পরিবার খাদ্যসংকট, কর্মহীনতা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন দ্রুত স্বাভাবিক করতে সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন, মহেশখালী।
রবিবার  দিনব্যাপী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিমের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম তদারকি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের এই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের সার্বিক নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় হোয়ানক, কালারমারছড়া ও মাতারবাড়ি ইউনিয়নের বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৩০০ পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালন করে।
ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি খাতের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল গাফ্ফারকে সঙ্গে নিয়ে মাতারবাড়ি, কালারমারছড়া, শাপলাপুর ও ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষি এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় পানবরজ, ধানক্ষেত এবং অন্যান্য আবাদি জমির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরিদর্শনের সময় পানচাষি, ধানচাষি ও অন্যান্য কৃষকের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র সংগ্রহ করা হয়। কৃষকদের ফসলের পরিচর্যা, জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকলে করণীয়, রোগবালাই প্রতিরোধ, অনুমোদিত বালাইনাশক ও কৃষি উপকরণের সঠিক ব্যবহার এবং দুর্যোগ-পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনের বিষয়ে মাঠেই ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের কাজও পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কৃষি সচল না হলে স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষকের আয় এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে, যাতে কৃষকরা দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে পারেন এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।
স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের তদারকি এবং কৃষকদের পাশে থেকে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ প্রদান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে খাদ্য সহায়তা ও কৃষি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালিত হওয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ আরও কার্যকর হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ সহায়তা, কৃষি ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও কৃষি উৎপাদন যত দ্রুত সম্ভব পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা।