আমি মানুষের মুখে ভোরের প্রথম আলো দেখতে চাই,
যেখানে ক্ষুধার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে একটি শিশুর হাসি।
আমি সেই পথের ধুলোকে প্রণাম করি,
যে ধুলো হাজার পায়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ইতিহাস লেখে।
এই পৃথিবী বারবার অন্ধকারের কাছে মাথা নত করেছে,
তবু একটি প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে
তার শেষ আলোটুকু দিয়ে
অসংখ্য চোখে সাহসের আগুন জ্বেলে গেছে।
আমি জানি, নদীকে শিকল পরানো যায় না,
বাতাসকে বন্দী করা যায় না,
মানুষের স্বপ্নও কোনো কারাগারে আটকে থাকে না—
সে একদিন আকাশের দরজায় নিজের নাম লিখেই ফেলে।
যে কৃষক রোদে দাঁড়িয়ে ফসলের সঙ্গে কথা বলে,
যে শ্রমিক ইটের ভেতরে আগামী দিনের শহর গড়ে,
যে মা নিজের ক্ষুধা লুকিয়ে সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দেয়—
আমার সব কবিতা তাদের উদ্দেশেই নতজানু।
আমি ফুলের চেয়ে মানুষের হাতকে বেশি ভালোবাসি,
কারণ সেই হাতই ভাঙা পৃথিবী জোড়া লাগাতে জানে।
আমি পাখির ডানার চেয়ে মানুষের বিশ্বাসকে বড় মনে করি,
কারণ বিশ্বাসই আকাশের চেয়েও দূরে উড়ে যায়।
যদি একদিন আমার কণ্ঠ থেমেও যায়,
তবু আমার শব্দগুলো যেন হেঁটে বেড়ায় মানুষের ভিড়ে,
অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে বলে—
ভয় নয়, সত্যেরই শেষ বিজয়।
আমি সেই দিনের অপেক্ষায় আছি,
যেদিন প্রতিটি শিশুর চোখে সমান আকাশ থাকবে,
প্রতিটি মানুষের কণ্ঠে সমান মর্যাদা,
আর পৃথিবী উচ্চারণ করবে একটিই নাম—
মানুষ।