দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী হামলা: দূতাবাসের কঠোর পদক্ষেপ দাবি
- নিজস্ব প্রতিবেদক
-
২০২৬-০৭-১০ ০৯:২৫:২৭
দক্ষিণ আফ্রিকায় গত বৃহস্পতিবার থেকে চলমান অভিবাসীবিরোধী অস্থিরতায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন। পুমালাঙ্গা প্রদেশের উইটব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের দোকান লুটসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং দক্ষিণ আফ্রিকান সরকারের কাছে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
দূতাবাসের ভূমিকা ও পদক্ষেপের দাবি:
স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এ বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে:
জরুরি সহায়তা ডেস্ক: আক্রান্ত প্রবাসীদের আইনি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক 'হেল্পলাইন' চালু করা।
কূটনৈতিক তৎপরতা: দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য চাপ প্রয়োগ করা।
ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান: লুট হওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
কমিউনিটি নেতাদের বিবৃতি:
দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, "আমরা সবসময় স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জানমালের ওপর যে হামলা চালানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারকে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করছি।"
প্রবাসীদের জন্য জরুরি পরামর্শ:
কমিউনিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রবাসীদের জন্য কিছু সতর্কতা জারি করা হয়েছে:
১. স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা।
২. সহিংসতাপ্রবণ এলাকায় চলাচলের সময় সতর্ক থাকা এবং সম্ভব হলে সাময়িকভাবে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে পরিচালনা করা।
৩. কোনো জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটি সংগঠন বা দূতাবাসের হটলাইনে যোগাযোগ করা।
বাংলাদেশ দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা হাজার হাজার প্রবাসীর জীবনযাত্রা ও জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।