বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করা সংগঠন জাগ্রত সাহিত্য পরিষদ বাংলাদেশ ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের কেন্দ্রীয় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। সংগঠনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করা যায়।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শিহাব রিফাত আলম জানান, নতুন কমিটির মাধ্যমে কেবল একটি সাংগঠনিক কাঠামো নয়, বরং বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে একটি সুদূরপ্রসারী জাতীয় সাহিত্য আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও গবেষকদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরাই হবে সংগঠনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে নাসরীন খান সভাপতি (প্রেসিডেন্ট), জেড. আই. মোস্তফা (সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল) সেক্রেটারি জেনারেল এবং কবি নূরুল হক মাস্টার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ খবির উদ্দিন, কবি এম. মজুরুল আলম, কবি রীনা পণ্ডিত, কবি রমেন্দ্র হালদার, কবি রোবাইয়া গুলশান আরা, দেবদাস হালদার, আব্দুল হামিদ সরকার, কবি শাহনাজ শারমিন মুনু, বাউল কবি বেলাল, ইলোরা সুমা, নন্দিনী লুইজা এবং হাসিনা সুলতানা।
এছাড়া ফারহানা রহমান মিষ্টি সাংগঠনিক সম্পাদক,
পবন কুমার সাহা (কলকাতা) আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, মরিয়ম রহমান যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক, ইমরান হোসান প্রচার সম্পাদক, কামরুল হাসান ‘এক পলকের কবিতা’ কার্যক্রমবিষয়ক সম্পাদক, কবি ফরহাদ হোসেন সিকদার সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক এবং নুসরাত জাহান কথা প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদ সুলতানা ও মো. মফিদুল ইসলাম সরকার। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটিতে আরও তিনজন সদস্য পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।
সংগঠনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিটি ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজ নিজ জেলায় অন্তত একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করবেন। এসব কমিটির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে উচ্চমানের কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও গবেষকদের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জাগ্রত সাহিত্য পরিষদ বাংলাদেশের ঘোষিত ভিশনে বলা হয়েছে, নতুন লেখক তৈরির পাশাপাশি পাঠক তৈরির ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত সাহিত্য কর্মশালা, সৃজনশীল লেখালেখির প্রশিক্ষণ, সাহিত্য সমালোচনা, সম্পাদনা প্রশিক্ষণ, আবৃত্তি কর্মসূচি, সাহিত্য উৎসব, পাঠচক্র, বইপড়া আন্দোলন, ই-বুক, অডিওবুক, সাহিত্য পডকাস্ট, ডিজিটাল ম্যাগাজিন এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময় কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া বাংলা ভাষা, সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি, ইতিহাস ও গবেষণাধর্মী প্রকাশনা, প্রবীণ সাহিত্যিকদের সম্মাননা, অসচ্ছল লেখকদের সহায়তা, তরুণ লেখকদের বৃত্তি, সাহিত্য ফেলোশিপ এবং আন্তর্জাতিক মানের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনারও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা শিহাব রিফাত আলম বলেন, “আমাদের স্বপ্ন একটি শক্তিশালী জাতীয় সাহিত্য আন্দোলন গড়ে তোলা। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সাহিত্যচর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করা, নতুন লেখকদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য। স্বপ্ন অনেক বড় দেখি; তার পাঁচ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা নিজেদের সফল মনে করব।”
সংগঠনের মূলমন্ত্র- “কলমে জাগরণ, পাঠে প্রজ্ঞা, সাহিত্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।” নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ সাহিত্যচর্চা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক, আলোকিত বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট নাসরিন খান বলেন,সারা বাংলাদেশ এ জাগ্রত সাহিত্য পরিষদ এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কারণ সকল জেলা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কবি-রা সম অধিকার যাতে পায়,কারো অবহেলা বা অবজ্ঞার পাত্র যাতে না হয়।একজন ভালো কবি বা লেখক সে যেখানেই থাকুন না কেন তাঁকে সম্মানিত করা,খোঁজে এনে সাহিত্য জগতে তাঁর দক্ষতার সাথে সকলকে পরিচয় করিয়ে দেয়া এটা একটা সংগঠন এর দায়িত্ব বলে জাগ্রত সাহিত্য পরিষদ মনে করে। সাহিত্যকে ভালোবেসে যাঁরা কলম তুলে নেন তাঁরা আর্থিক লাভবান হন না। এটা মনের টান আর ভালোবাসার ফসল।সেই ভালোবাসায় নিজের অবস্থান তৈরি হোক এটা আমাদের অঙ্গীকার।