বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যয়ে ইনকিলাব মঞ্চ ইউকে (Inqilab Moncho UK) আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ইস্ট লন্ডনের গ্র্যান্ড রসুই রেস্টুরেন্টে গত বৃহস্পতিবার এক আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও দায়িত্বশীলদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
অনুষ্টানে বক্তারা সব ধরনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা দেশের সামরিক বাজেট বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের কনভেনর বেলাল হোসেন বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যায় জড়িত খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা-সহ ইউরোপে এই সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল করিম বাংলাদেশের ফ্যাসিজম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি ইতালিতে মুসোলিনি এবং জার্মানিতে হিটলারের উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সর্বগ্রাসী রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদী শাসন-সহ সকল প্রকার ফ্যাসিবাদকে শয়তানের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
সাংগঠনিক সম্পাদ ড. নাকিব কামরান ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, হাদি হ্যতার বিচার, প্রবাসীদের অবদান ইত্যাদি তুলে ধরেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ড. নাকিব আবহমান বাংলার গণমানুষের মুখের ভাষাকেই বাংলা ভাষার মূল প্রাণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ইনকিলাব মঞ্চ অক্সফোর্ডের প্রতিনিধি ড. ঈপ্সিতা ইভা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও ধর্মীয় হেজেমোনি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
ইনকিলাব মঞ্চ ইউকের ইমপ্যাক্ট টিমের লিড রফিক হান্নান আগামী দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে ইউরোপের বিভিন্ন বড় শহরে “মার্চ ফর ইনসাফ” কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
গবেষণা টিমের আশিক এলাহীর বক্তব্যে সীমান্ত হত্যা ইস্যু এবং সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রভাব-সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
সভায় বক্তারা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সব ধরনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে জাগ্রত রাখা, বৈষম্য দূর করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমতা ও ইনসাফনির্ভর 'নয়া বাংলাদেশ' বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা ও তাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে সক্রিয় অংশগ্রহনের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। তারা সরকারের প্রতি গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।