দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে কানাডাকে উড়িয়ে শেষ আটে মরক্কো

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-০৫ ১১:৪১:২৪
image

সহ-আয়োজক কানাডার বিশ্বকাপ অভিযান থামিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে দ্বিতীয়ার্ধের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে শেষ আট নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে প্রথম সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে এবারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো কানাডাকে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণে আধিপত্য ছিল কানাডার। নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে স্বাগতিকরা। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে না পারায় বিরতিতে গোলশূন্য অবস্থায় মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
১০ মিনিটেই টানি ওলুওয়েসির জোরালো শট পা বাড়িয়ে রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। পরে কর্নার থেকে আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন ডিফেন্ডার অ্যালিস্টেয়ার জনস্টোন। প্রথমার্ধে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেও সফল হতে পারেনি কানাডা।
অন্যদিকে ২০ মিনিটে চোটের কারণে ইসমাইল সাইবারিকে হারিয়ে ধাক্কা খায় মরক্কো। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন সোফিয়ানে রাহিমি। বিরতির আগে তিনিই দূরপাল্লার শটে দলের প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়ে তোলেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি এবং কানাডার রিচি লারেয়া সংঘর্ষে জড়ালে দুজনই হলুদ কার্ড দেখেন। সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে ছয়টি হলুদ কার্ড দেখান রেফারি মাইকেল অলিভার, যার চারটিই ছিল মরক্কোর খেলোয়াড়দের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমার্ধে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক হলুদ কার্ড প্রদর্শনের রেকর্ড।
বিরতির পর সম্পূর্ণ বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমে ৫০তম মিনিটেই এগিয়ে যায় মরক্কো। আশরাফ হাকিমির নিচু ফ্রি-কিক থেকে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা আজেদিন উনাহি সহজেই বল জালে পাঠান। দুই ডিফেন্ডারের আড়ালে থাকায় বল দেখতে পারেননি কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রিপিউ।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় উল্টো ৮২তম মিনিটে আবারও আঘাত হানে মরক্কো। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে প্রথম স্পর্শেই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় সোফিয়ানে রাহিমি তৃতীয় গোলটি করে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন।
কানাডার জন্য এটি ছিল স্বপ্নভঙ্গের এক সন্ধ্যা। ৬৮ হাজার ৭৭৭ দর্শকের উপস্থিতিতে নিজেদের ইতিহাসে আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিল তারা। বিশেষ করে প্রথমার্ধের একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে না পারাই শেষ পর্যন্ত বড় আক্ষেপ হয়ে থাকে।
এবারের বিশ্বকাপে কাতারকে ৬-০ গোলে হারিয়ে প্রথম জয়ের ইতিহাস গড়েছিল কানাডা। এরপর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে দলটি। তবে শেষ ষোলো পেরিয়ে রূপকথার যাত্রা আরও দীর্ঘ করার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হলো না।
অন্যদিকে ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে কানাডাকে হারানোর স্মৃতি এবারও ধরে রাখল মরক্কো। দুর্দান্ত দ্বিতীয়ার্ধের ফুটবলে তারা আবারও উত্তর আমেরিকার দলটিকে পরাজিত করে বিশ্বকাপের শেষ আটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল।

মরক্কো, কানাডা, বিশ্বকাপ