এমবাপ্পের পেনাল্টিতে প্যারাগুয়েকে বিদায়,মরক্কোর মুখোমুখি ফ্রান্স

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-০৫ ১১:৩৩:৪১
image

কঠিন লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে পেনাল্টি থেকে করা সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় পায় দিদিয়ের দেশ্যমের দল। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও সহজে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের সুসংগঠিত রক্ষণ এবং এমবাপ্পেকে কার্যকরভাবে আটকে রাখার কৌশলে বহু সময় ছন্দ হারিয়ে ফেলে ইউরোপীয় দলটি। তবে ৭০তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ডিসায়ার ডুয়ে পেনাল্টি আদায় করলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি আসরে নিজের গোলসংখ্যা সাতে উন্নীত করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড। এতে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে উঠে এসেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ১৯ ম্যাচে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯, যা মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যার চেয়ে মাত্র একটি কম।
ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডে তীব্র গরমের মধ্যেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পাশাপাশি ঝড়ের আশঙ্কায় বিশেষ আবহাওয়া সতর্কতাও জারি ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই শেষ হয়। এর আগে একই মাঠে ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল।
বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪১তম অবস্থানে থাকা প্যারাগুয়ে আগের পর্বে টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে আলোচনায় আসে। এবারও তারা পাঁচজনের রক্ষণভাগ সাজিয়ে ফ্রান্সকে চাপে রাখার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামে। নিচু ব্লকে রক্ষণ, শারীরিক ফুটবল এবং প্রয়োজনে কৌশলী ফাউলের মাধ্যমে তারা ফরাসিদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি।
এর ফলে ম্যাচের বড় একটি সময় হতাশায় কাটান এমবাপ্পে। এক পর্যায়ে আন্দ্রেস কুবাসের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। যদিও ফ্রান্স পুরো ম্যাচেই বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, কিন্তু পরিষ্কার গোলের সুযোগ ছিল খুবই সীমিত। প্রথমার্ধে মানু কোনোয়ের একটি দূরপাল্লার শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। বিরতির পর আরেকটি সুযোগ দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল।
ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর পরিবর্তন আনেন কোচ দেশ্যম। ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে ডিসায়ার ডুয়েকে মাঠে নামানো হয়। বদলি হিসেবে নেমেই তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। প্যারাগুয়ের একাধিক রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় দিয়েগো গোমেজের ফাউলে পড়ে গেলে ভিডিও পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন উজবেকিস্তানের রেফারি। স্পট কিক থেকে এমবাপ্পে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন।
যোগ করা সময়ে এমবাপ্পে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও দ্বিতীয় গোল আর আসেনি। শেষ পর্যন্ত এক গোলের জয় নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় ফ্রান্স।
এবার শেষ আটে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফরাসিরা। কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দলটি। আগামী বৃহস্পতিবার ফক্সবোরোতে অনুষ্ঠিত হবে দুই দলের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও একই পর্যায়ে প্যারাগুয়েকে হারাতে ফ্রান্সের প্রয়োজন হয়েছিল একটি গোল্ডেন গোল। সেই আসরেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ফরাসিরা।

ফ্রান্স, এমবাপ্পে, বিশ্বকাপ