চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অফিসকালিন প্রাইভেট প্রাকটিসের অভিযোগ,

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৭-০৩ ২০:২৪:৫৬
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অফিস চলাকালীন সময়ে  বেসরকারি একটি হাসপাতালে রোগি দেখার অভিযোগ উঠেছে।  এদিকে ওই চিকিৎসক ওই  হাসপাতালে রোগি দেখার সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে তিনি রোগি ফেলে দৌড়ে ওই হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান।  প্রায় সাথে সাথে চিকিৎসকের ওই দৌড়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর তুমুল আলোচনা- সমালোচনা শুরু হয়েছে ঘটনাটি নিয়ে। ঘটনাটি এখন ‘টক অব দ্য টাউন’।
জানা গেছে, গত  বৃহস্পতিবার (২জুলাই) দুপুরে জেলা শহরের এ্যাপোলো হাসপাতালে একজন পুরুষ রোগির আলট্রাসনোগ্রাম করছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার-কোঅর্ডিনেটর ডা.ইনজামাম উল হক। এসময় সেখানে ক্যামেরা নিয়ে হাজির হন চার সাংবাদিক। ইনজামাম এই সময়  হতচকিত হয়ে দ্রুত  আল্টাসনোগ্রাম মেশিন ও ওই রোগিকে ফেলে এক দৌড়ে হাসপাতাল করিডোর পার হয়ে প্রধান ফটক খুলে হাসপাতালের সামনের  সড়কের পাশে  এসে থামেন। এ সময় মাইকে যোহরের আজান শুরু হয় ( সাধারণত দুপুর পৌনে ১টার দিক থেকে আজান শুরু হয়)। এরপর দিনব্যাপী চলে ঘটনা নিয়ে নানা নাটকীয়তা।
এদিকে দৌড়ের ওই ঘটনার সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও এর পরপরই  ভাইরাল হওয়া শুরু হলেও শুক্রবার(৩জুলাই) তা  ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে টক অব দ্যা  টাউন হয়। নানা মন্তব্য শুরু হয় ফেসবুকে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম সাহবুদ্দীন বলেন, শুক্রবার ওই ভিডিও তাঁর নজরে আসে। ওই চিকিৎসক দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অফিসে তাঁর সাথেই ছিলেন। পরে দুপুর দেড়টার দিকে তাঁকে আবার অফিসে দেখা গেছে। মাঝে প্রায় ১ ঘন্ট্ াওই চিকিৎসক কোথায় কি করছিলেন সেটি তিনি অবগত নন। দুপুর ১টা থেকে লাঞ্চ ব্রেক জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন,বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। চিকিৎসকের কর্তব্যে অবহেলা পাওয়া গেলে তা উর্ধতণ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে ওই হাসপাতালের পরিচালক রফিকুল  ইসলাম দাবি করেছেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত  ষড়যন্ত্র। একটি মহল একজনকে রোগি সাজিয়ে ওই চিকিৎসককে  ইমার্জেন্সি বলে ডাকিয়ে  এনে  সাংবাদিকদের খবর দিয়ে এই ঘটনা ঘটান। ওই চিকিৎসক ১টা ৫ মিনিটে ক্লিনিকে আসেন বলেও দাবি ওই পরিচালকের। চিকিৎসকের অমন ভোঁ-দৌড় সম্পর্কে পরিচালক বলেন,তিনি আচমকা অতজন সাংবাদিক এবং ক্যামেরা দেখে আতংকিত হয়ে দৌড় দেন।
এদিকে ঘটনা সম্পর্কে জানার জন্য একাধিকবার চিকিৎসক ইনজামামের মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।