চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রেষণে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও শাখা প্রধান হিসেবে নিয়োগ এবং শর্তসাপেক্ষে চুক্তিভিত্তিক প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)।
মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাকবিশিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এ সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে বিসিএস ক্যাডারদের প্রেষণে নিয়োগ এবং অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার নামে চুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের সিদ্ধান্ত দেশের বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, স্বকীয়তা ও শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে। মাঠপর্যায়ের যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বঞ্চিত করে বাইরে থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের লক্ষ্যে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। যখন একটি নিয়মতান্ত্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান, তখন বিকল্প বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এতে শিক্ষাঙ্গনে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে।
বিবৃতিতে বাকবিশিসের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ এবং চুক্তিভিত্তিক প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি এনটিআরসিএ আয়োজিত লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে দ্রুত পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে স্থায়ী নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ও মেধার মূল্যায়ন উপেক্ষা করে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এ ধরনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের শিক্ষক সমাজ তা মেনে নেবে না।