মানবিক অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৬-৩০ ১৯:০৯:২৫
image

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন পেয়েছে। বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে এটি মানবিক, বিনিয়োগবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনের ভিত্তি তৈরির বিষয়টিও বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদে কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয়। নতুন অর্থবছরের জন্য সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর এটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট। এর আগে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান সর্বশেষ বিএনপি সরকারের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন।
অনুমোদিত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। বাজেটের মোট আকার সম্ভাব্য জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ‘৩আর (৩জ) কৌশল’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। এ কৌশলের তিনটি ধাপ হলো— পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা, পুনর্বিন্যাস এবং ত্বরান্বিত পুনর্গঠন। এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে সরকার।
আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী সংসদে ২০২৬ সালের বরাদ্দ বিল উত্থাপন করেন। এতে মোট ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
এর আগে সংসদে অর্থ বিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ গৃহীত হয়। সংশোধনীর মধ্যে ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য।
বরাদ্দ বিল পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। অপরদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনলেও কণ্ঠভোটে সেগুলো নাকচ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং স্বতন্ত্র সদস্যসহ ৪৩ জন সংসদ সদস্য ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। এসবের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পরিবেশ, সড়ক পরিবহন, রেলপথ, ডাক ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের অনুরোধে স্পিকার গিলোটিন পদ্ধতি প্রয়োগ করে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো একযোগে কণ্ঠভোটে অনুমোদন দেন। বরাদ্দ বিল পাসের সময় বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা সংসদে উপস্থিত থাকলেও বিলটির বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি তোলেননি।

বাজেট, জাতীয় সংসদ, অর্থনীতি