বিচারপতি কাজী ফয়েজ ঈসা পাকিস্তানের ২৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৩-০৯-১৮ ১০:১৫:০৮
image

বিচারপতি কাজী ফয়েজ ঈসা পাকিস্তানের ২৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ইসলামাবাদে আইওয়ান-ই-সদরে এক অনুষ্ঠানে নতুন প্রধান বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নতুন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সারিনা ইসাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রোববার আইওয়ান-ই-সদরে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি হিসেবে কাজী ফয়েজ ঈসার শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। কুরআন তেলাওয়াতের পর বিচারপতি ঈসার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি পাঠ করে শোনানো হয়। পরে প্রেসিডেন্ট আলভি নতুন প্রধান বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন ও জিও নিউজ সূত্রে জানা যায়, বিচারপতি কাজী ফয়েজ ঈসা ১৯৫৯ সালের ২৬ অক্টোবর পাকিস্তানের কোয়েটায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বেলুচিস্তানের পিশিন শহরের প্রয়াত কাজী মোহাম্মদ ঈসার ছেলে। বিচারপতি কাজী ফয়েজ ঈসার বাবা পাকিস্তান আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন এবং দেশটির প্রতিষ্ঠাতা কায়েদ-ই-আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
বিচারপতি ঈসার বাবা ছিলেন বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রথম ব্যক্তি যিনি বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন এবং লন্ডন থেকে ফিরে আসার পর বেলুচিস্তানে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেন। তার বাবা বেলুচিস্তান থেকে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির একমাত্র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিচারপতি ঈসার মা বেগম সাইদা ঈসা একজন সমাজকর্মী ছিলেন এবং শিক্ষা, শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করে এমন হাসপাতাল ও অন্যান্য দাতব্য সংস্থার বোর্ডে সম্মানসূচক পদে কাজও করেছিলেন তিনি।
কোয়েটায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর ঈসা করাচিতে চলে যান এবং করাচি গ্রামার স্কুল (কেজিএস) থেকে তার ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল শেষ করেন। এর পর তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতে লন্ডনে যান এবং সেখানে তিনি ইনস অব কোর্ট স্কুল ল থেকে বার প্রফেশনাল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
বিচারপতি ঈসা ১৯৮৫ সালের ৩০ জানুয়ারি বেলুচিস্তান হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট এবং ১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে নথিভুক্ত হন। তিনি পাকিস্তানের হাইকোর্ট, ফেডারেল শরীয়ত আদালত এবং পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টে ২৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইন প্রাকটিস করেছেন।
তিনি বেলুচিস্তান হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, সিন্ধু হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য। বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানের হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্ট তাকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ডাকতো এবং কিছু জটিল মামলায় তার সহায়তা গ্রহণ করতো। তিনি আন্তর্জাতিক সালিশও পরিচালনা করেছেন।
বিচারপতি কাজী ফয়েজ ঈসা ২০১৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।