অন্তর্বর্তী আমলেই সর্বাধিক দুর্নীতি,অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৬-২৮ ২৩:০৫:৪১
image

দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেও যদি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তবে সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বর্তমান সরকারের সময়েও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে গত ১৮ মাসে কোথায়, কীভাবে এবং কারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, তা দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। সরকারের মূল ভিত্তিই স্বচ্ছতা হওয়ায় কোনো অভিযোগই তদন্তের বাইরে থাকা উচিত নয়।
বক্তব্যে তিনি অতীত সরকারের সময়কার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জবাবদিহির অভাবে দেশে লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি গড়ে ওঠে। ওই সময়ে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে এবং ১৫ বছরে মোট পাচারের পরিমাণ প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে ঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং আইনের আড়ালে দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়ে আইনি সুরক্ষা দিয়ে জনগণের অর্থ অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আদম ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় অংশ রাজনৈতিক বিবেচনায় অপাত্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংকট এবং অন্তর্বর্তী সময়ের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছে। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদাসল ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এবারের বাজেটকে তিনি ‘নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ থেকে সরকার বিরত থেকেছে।
তিনি আরও জানান, বাজেটে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন উন্নয়ন, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট, দুর্নীতি, সংসদ