জননিরাপত্তা রক্ষা এবং সত্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে উভয়ের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই পারস্পরিক সম্মান, পেশাগত সম্পর্ক, তথ্য আদান-প্রদান ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের সহযোগী হতে পারে।
একজন সাংবাদিক যখন জনস্বার্থে, সত্য ও নিরপেক্ষতার পথে কাজ করেন, তখন তাকে নানা ঝুঁকি, হুমকি ও বাধার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় ঘটনাস্থলে সবার আগে পৌঁছে জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করে পুলিশ। আবার পুলিশের কার্যক্রম, অপরাধ, অন্যায় বা সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরেন সাংবাদিক। এই দুই পেশার মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলে সমাজ উপকৃত হয়, সত্য প্রকাশ সহজ হয় এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা শক্তিশালী হয়।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, কিছু ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি, অহংকার, অসহযোগিতা কিংবা অপেশাদার আচরণের কারণে পুলিশ ও সাংবাদিকের মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়। কিছু সাংবাদিক পুলিশের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব না বুঝে অযথা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন, আবার কিছু পুলিশ সদস্যও ক্ষমতার অহংকারে সম্পর্ক নষ্ট করেন। এতে উভয় পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।
মনে রাখতে হবে সাংবাদিকতা মানে শুধু প্রশ্ন করা নয়, দায়িত্বশীলভাবে সত্য অনুসন্ধান করা। আর পুলিশি পেশা মানে শুধু ক্ষমতা নয়, জনগণের সেবায় আইন প্রয়োগ করা। তাই সংঘাত নয়, সমন্বয়ই হওয়া উচিত মূলনীতি।
জাতির স্বার্থে, সত্যের স্বার্থে এবং জনকল্যাণে পুলিশ ও সাংবাদিক—দুজনকেই সংবিধান, আইন ও নৈতিকতার আলোকে কাজ করতে হবে। সম্পর্কের ফাটল নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়াই পারে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সচেতন সমাজ গড়তে।
লেখকঃ সাংবাদিক