মহেশখালী (কক্সবাজার)
দেশে পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ চাষি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, অপ্রয়োজনীয় লবণ আমদানি বন্ধ করা না হলে দেশের ঐতিহ্যবাহী লবণ শিল্প মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে এবং লাখো চাষি পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে।
বিশেষ করে কক্সবাজার, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও পেকুয়া এলাকার হাজার হাজার পরিবার সরাসরি লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবছর মৌসুমজুড়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত লবণ দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করে থাকে। অথচ উৎপাদনের মৌসুম চলাকালীন সময়ে আমদানির সিদ্ধান্ত স্থানীয় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন চাষিরা।
লবণ চাষিদের ভাষ্য, বর্তমানে মাঠে বিপুল পরিমাণ লবণ মজুত রয়েছে। কিন্তু আমদানির খবরে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন ব্যয় বাড়লেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় অনেক চাষি লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশীয় উৎপাদনকে উপেক্ষা করে বিদেশি লবণ আমদানি করা হলে স্থানীয় শিল্প ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে শুধু চাষিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং পরিবহন, মজুদ, বিপণনসহ সংশ্লিষ্ট খাতের হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষও কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে উৎপাদিত লবণের সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সুবিধা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আমদানির প্রয়োজন হবে না। তারা অভিযোগ করেন, একটি অসাধু সিন্ডিকেট বিদেশি লবণ আমদানির সুযোগ তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় সরকারকে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, দেশের কৃষি ও স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আধুনিক লবণ সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করা হলে দেশীয় লবণ শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
লবণ চাষি ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকলে অপ্রয়োজনীয় আমদানি বন্ধ রাখতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী লবণ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।