নদীর কাছে শেখা একটি পাঠ
আজ তোমাদের এমন একজন বন্ধুর কথা বলব,যার কোনো পা নেই,তবু সে সারাজীবন হেঁটে চলে।
সে হলো-নদী।
আমি যখন ছোট্ট একটি চারা ছিলাম,তখন আমার পাশ দিয়ে একটি সরু নদী বয়ে যেত।
প্রতিদিন আমি তাকে দেখতাম।
কখনো শান্ত, কখনো স্রোতস্বিনী।
একদিন আমি নদীকে জিজ্ঞেস করলাম,
-বন্ধু,তুমি কি কখনো ক্লান্ত হও না?
নদী হেসে বলল,
-ক্লান্ত হই,কিন্তু থেমে যাই না।
আমি বললাম,
-তোমার পথে তো কত বাধা আসে! কোথাও বালুচর,কোথাও পাথর,কোথাও ভাঙন।
নদী শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিল,
-বাধা,পথ বন্ধ করে না,নতুন পথ খুঁজতে শেখায়।
আমি দীর্ঘক্ষণ চুপ করে রইলাম।
তারপর নদী আবার বলল,
-দেখো বটদাদু,আমি যদি শুধু নিজের জন্য বয়ে চলতাম,তাহলে আমার কোনো মূল্য থাকত না। আমি চলি বলেই কৃষকের জমিতে ফসল জন্মায়,মানুষের তৃষ্ণা মেটে,মাছ বেঁচে থাকে,গাছ বড় হয়,পাখিরা গান গায়।
সেদিন আমি বুঝেছিলাম-
জীবনের সবচেয়ে সুন্দর কাজ হলো অন্যের উপকারে আসা।
আজও যখন তোমরা আমার ছায়ায় বসো,আমি নদীর সেই কথাগুলো মনে করি।
তোমরাও নদীর মতো হও।
নিজে এগিয়ে চলো,আর চলতে চলতে অন্যের জীবনেও আনন্দ,আশা আর উপকার পৌঁছে দাও।
বটদাদুর শিক্ষাঃ
যে শুধু নিজের জন্য বাঁচে,সে ছোট হয়ে যায়।
যে অন্যের উপকার করে,সে নদীর মতো সবার হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।
প্রকৃতির পাঠঃ
নদীকে পরিষ্কার রাখা আমাদের দায়িত্ব।
নদী বাঁচলে মানুষ,কৃষি, মাছ, বন-সবই বাঁচবে।
আজকের সবুজ প্রতিজ্ঞাঃ
আমি নদী,খাল বা পুকুরে কখনো ময়লা ফেলব না এবং অন্যদেরও তা করতে নিরুৎসাহিত করব।
-বটদাদু