ডুমুরিয়া ডুমুরিয়া।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ডামাডোল বাজা শুরু হয়েছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার পর-পরই প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশন। সেই সুবাধে ডুমুরিয়া উপজেলার ৪নং খর্ণিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মাঠে নেমেছেন অনেকেই। ইতোমধ্যেই চেয়ারম্যান পদে অন্তত অর্ধ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম মুখে-মুখে শোনা যাচ্ছে। আবার অনেকেই প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরবে প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী মাঠে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক তুলে নেয়ায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা। তবে আওয়ামী লীগ ছাড়া এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর নাম বেশি শোনা যাচ্ছে । চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার যাদের নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে তারা প্রায় সবাই বিএনপি জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ও পদ—পদবীধারী। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। তবে মাঠ পর্যায়ে দু’একজন ছাড়া অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনো খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছেন না। তারা পরিবেশ—পরিস্থিতি পর্যক্ষেণ করে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে।
এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় যাদের নাম লোকমুখে শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সদ্য প্রয়াত খর্ণিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বার বার নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদারের আপন ছোটভাই শেখ শাহিনুর রহমান শাহিন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কথা জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। তিনি ১৯৮৮ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন, পরে খুলানা জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্বে আছেন। তার পিতা প্রয়াত শেখ আমজাদ হোসেনও এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। অন্যদিকে বর্তমান খর্ণিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মোল্লা আবুল কাসেম চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। তিনি সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য পদে দায়িত্বে আছেন। তিনি টানা ৫ বার ইউপি মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
প্রার্থী তালিকায় আছেন সাবেক ছাত্র নেতা মোঃ শফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার, তিনি খুলনা জেলা যুবদলের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এবং বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।অন্যদিকে ২০১৬ সালে দলীয় মনোনয়ন চাওয়া শেখ হুমায়ুন কবির প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। তিনি উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক এফএম রফিকুল ইসলাম এবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনিও জোরেশোরে ভোটের মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, তিনি এর আগেও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
অন্যদিকে জামায়াতের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন ইউনিয়ন জামায়াতে আমীর মোঃ আবুল হোসেন শেখ।দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ভোটের মাঠে একক প্রার্থী হয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে এবারের নির্বাচনে তরুনদের প্রার্থী হয়ে সাড়া জাগাতে পারে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সদস্য শেখ মুজাহিদ হোসেন জোয়ার্দার। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জামির হোসেন জোয়ার্দার এর সন্তান।এদিকে আমেরিকা প্রবাসী মোঃ সাইফুল ইসলাম মোড়লের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচার হতে দেখা গেছে। তিনি এলাকায় বেশ আগে থেকেই জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড করে আসছেন।