জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ইকুয়েডর,নিশ্চিত নকআউট

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-২৬ ১০:৪০:২২
image

পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইকুয়েডর। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ-ই-এর শেষ ম্যাচে গনজালো প্লাটার জয়সূচক গোলে ইতিহাসের দ্বিতীয়বারের মতো শেষ ৩২-এ ওঠার কৃতিত্ব দেখায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
তিন ম্যাচ শেষে জার্মানি ও আইভরি কোস্টের পর সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে ইকুয়েডর। অন্যদিকে আগেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা জার্মানি ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষেই থেকে পরবর্তী পর্বে উঠেছে।
ম্যাচের শুরুতেই জার্মানি এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে লেরয় সানে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন। তবে গোলের আগে আলেক্সান্দার পাভলোভিচের উঁচু পায়ে পেড্রো ভিটের মাথায় আঘাত লাগলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ায় ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা তীব্র আপত্তি জানান। বিতর্ক সত্ত্বেও গোলটি বহাল থাকে।
তবে হতাশ না হয়ে দ্রুত ম্যাচে ফেরে ইকুয়েডর। সপ্তম মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নিলসন আনগুলোর নিচু শট জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে সমতা ফেরায়।
প্রথমার্ধে দুই দলই আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। বিরতির পর জার্মানির হয়ে কাই হাভার্টজ পেনাল্টির দাবি তুললেও ভিডিও সহায়তায় সেটি নাকচ হয়ে যায়। পরে কোচ জুলিয়ান নাগলেসমান আক্রমণে নতুন গতি আনতে ডেনিজ উনডাভকে মাঠে নামান।
কিন্তু ম্যাচের শেষ ভাগে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ইকুয়েডর। ৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে রদ্রিগেসের হালকা ছোঁয়ায় বল পেয়ে গনজালো প্লাটা নয়্যারের সামনে থেকেই সহজেই জালে পাঠিয়ে দেন। সেই গোলই ইকুয়েডরের নকআউট নিশ্চিত করে।
ইকুয়েডরের সমর্থকদের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল নিউ জার্সি স্টেডিয়াম। শেষ বাঁশি বাজার পর তাদের উদ্‌যাপন ছিল দেখার মতো।
এই হারে জার্মানির টানা ১১ ম্যাচের জয়যাত্রা থেমে গেলেও নকআউটে উঠতে কোনো সমস্যা হয়নি। আগামী সোমবার ফক্সবোরো স্টেডিয়ামে অন্য একটি গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচ খেলবে জুলিয়ান নাগলেসমানের শিষ্যরা।
ম্যাচ শেষে জার্মান অধিনায়ক যোশুয়া কিমিখ বলেন, দল প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। নকআউটে আরও মনোযোগী ফুটবল খেলতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভুল কমাতে হবে। প্রতিপক্ষকে সহজে বলের দখল ছেড়ে না দিলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইনজুরির কারণে ম্যাচে দুটি পরিবর্তন আনতে হয়েছিল নাগলেসমানকে। লিগামেন্ট চোটে আসর থেকে ছিটকে যাওয়া নিকো শ্লটারবেকের জায়গায় মূল একাদশে ফেরেন আন্তোনিও রুডিগার। এছাড়া বাঁ প্রান্তে ন্যাথানিয়েল ব্রাউনের পরিবর্তে খেলেন ডেভিড রাউম।

ইকুয়েডর, জার্মানি, বিশ্বকাপ