শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, শ্রদ্ধা জানালেন চীনের বিপ্লবী বীরদের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-২৬ ১০:১৬:৪৭
image

বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এ বৈঠক শুরু হয়।
চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকের আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত গণবীর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং বিউগলের সুরে আনুষ্ঠানিক সম্মান জানানো হয়। পরে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তিনি মালয়েশান সফর শেষে চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত সামার দাভোস ২০২৬-এ অংশ নেন। সেখানকার কর্মসূচি শেষ করে বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান।
বেইজিং সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে সই হয়। একই দিনে দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে পৃথক একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গে দলীয় পর্যায়ের বৈঠকও করেন।
এ ছাড়া চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন শীর্ষ শিল্প ও অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বেইজিং পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। মালয়েশিয়া ও দালিয়ান সফরের ধারাবাহিকতায় এবারও তিনি মাত্র ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সফর করছেন। প্রতিনিধিদলে ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন।
সফর শেষে শুক্রবার বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তারেক রহমান,শি জিনপিং,চীন সফর