কে খেয়ে গেল আমার কাঁঠাল?
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি খুব উত্তেজিত।
কারণ বটদাদুর পাশের কাঁঠালগাছে একটি ছোট্ট পাকা কাঁঠাল ঝুলছিল।
গত তিন দিন ধরে আমি সেটার দিকে নজর রাখছিলাম।
আমি ঠিক করেছিলাম,আজ সবাইকে নিয়ে কাঁঠালটা দেখতে যাব।
কিন্তু...
সকালে গিয়ে দেখি কাঁঠাল নেই!
একেবারেই নেই!
আমি হতভম্ব।
-কে খেয়ে গেল আমার কাঁঠাল?
আমি সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করলাম।
প্রথমে কাঠবিড়ালিকে জিজ্ঞেস করলাম।
-তুমি কি খেয়েছ?
সে মাথা নেড়ে বলল,
-আমি কাঁঠাল খাই না,আমি বাদাম পছন্দ করি।
তারপর এক ছাগলকে জিজ্ঞেস করলাম।
সে বলল,
-আমি তো সারারাত খোঁয়াড়ে ছিলাম।
রাহি এসে বলল,
-শিসু,আগে দেখে নাও কাঁঠালটা সত্যিই পেকেছিল কি না।
আমি বললাম,
-অবশ্যই পেকেছিল!
ঠিক তখন অরণ মাটির দিকে তাকিয়ে বলল,
-সবাই একটু এদিকে আসো।
আমরা এগিয়ে গেলাম।
দেখি, গাছের নিচে কাঁঠালের ডাঁটার একটি অংশ পড়ে আছে।
অরণ বলল,
-দেখো,কাঁঠালটি বাতাসে দুলতে দুলতে পেকে গিয়েছিল। রাতে ঝরে পড়েছে।
আমি অবাক হয়ে বললাম,
-তাহলে কেউ চুরি করেনি?
বটদাদু হেসে বললেন,
-না শিসু। সব হারানো জিনিস চুরি হয় না।
কখনো কখনো প্রকৃতির নিজেরও নিয়ম আছে।
আমি একটু লজ্জা পেলাম।
কাঠবিড়ালির কাছে গিয়ে বললাম,
-দুঃখিত বন্ধু, আমি তোমাকে সন্দেহ করেছিলাম।
কাঠবিড়ালি হেসে বলল,
-কোনো সমস্যা নেই। তবে পরেরবার তদন্তের আগে প্রমাণ খুঁজে নিও!
সবাই হেসে উঠল।
আমিও।
শিসুর ছোট্ট শিক্ষাঃ
কাউকে দোষ দেওয়ার আগে সত্য ঘটনা জানার চেষ্টা করা উচিত।
প্রকৃতির তথ্যঃ
পাকা ফল অনেক সময় নিজে থেকেই গাছ থেকে ঝরে পড়ে। এতে বীজ মাটিতে ছড়িয়ে নতুন গাছ জন্মাতে সাহায্য হয়।
আজকের প্রশ্নঃ
তোমার সবচেয়ে প্রিয় ফল কোনটি?
-আম
-কাঁঠাল
-কলা
-তরমুজ
-আনারস
-শিসু