১৪ মাস পর শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২০২৬-০৬-২৪ ১১:৩৮:০৩
image

দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস বিরতির পর আগামী রোববার দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। অন্ধত্ব প্রতিরোধ, অপুষ্টি দূরীকরণ এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটির বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে এই কর্মসূচি চলবে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের আওতায় আনতে ১২ জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০ ইউনিয়নের ৭১৪ ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইনের পর অতিরিক্ত চার দিন বিশেষ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর শাহবাগে আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিকে সফল করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমানো এবং মৃত্যুহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য, দেশে ১৯৭৩ সালে প্রথম ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি চালু হয়। পরবর্তীতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে এটি যুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

ভিটামিন এ, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি কর্মসূচি