রাহির ডায়েরি-৩

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৬-২১ ১৭:১২:৫০
image

যে দিন আমি একটি পাখির জন্য পানি রেখেছিলাম

আজ দুপুরে খুব গরম পড়েছিল।
রোদ যেন পুরো উঠোনটাকে আগুনের চাদরে ঢেকে ফেলেছে।
আমি বারান্দায় বসে গল্পের বই পড়ছিলাম।
হঠাৎ দেখি,একটি ছোট্ট পাখি বারবার আমাদের উঠোনে নেমে আসছে।
কিছু খুঁজছে যেন।
একবার আসে।
আবার উড়ে যায়।
আবার ফিরে আসে।
আমি চুপচাপ ওকে দেখতে লাগলাম।
ঠিক তখনই বটদাদুর কথা মনে পড়ল।

বটদাদু একদিন বলেছিলেন,
-গরমের দিনে শুধু মানুষ নয়,পাখিরাও পানির কষ্ট পায়।
আমি দ্রুত রান্নাঘর থেকে একটি ছোট মাটির বাটি এনে তাতে পরিষ্কার পানি ভরে উঠোনের এক কোণে রেখে দিলাম।
তারপর দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
কিছুক্ষণ পর সেই পাখিটি আবার এলো।
এদিক-ওদিক তাকিয়ে ধীরে ধীরে বাটির কাছে গেল।
তারপর ঠোঁট ডুবিয়ে পানি খেতে শুরু করল।
আমি এত খুশি হলাম যে মনে হলো,যেন আমি কোনো বড় কাজ করে ফেলেছি।

পাখিটি পানি খেয়ে ডানা ঝাপটাল।
তারপর উড়ে গিয়ে কাছের একটি ডালে বসল।
কেন জানি মনে হলো,সে আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।

সন্ধ্যায় অরণকে ঘটনাটা বললাম।
অরণ হেসে বলল,
-তুমি আজ একজন সত্যিকারের প্রকৃতি-বন্ধুর কাজ করেছ।

আমি আকাশের দিকে তাকালাম।
ছোট্ট একটি বাটি পানি।
কিন্তু কারও জন্য সেটাই হয়তো ছিল সবচেয়ে বড় সাহায্য।

রাহির ছোট্ট উপলব্ধি
ভালো কাজ বড় না ছোট-সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
গুরুত্বপূর্ণ হলো,সেই কাজটি কারও উপকারে আসে কি না।

আজকের প্রকৃতি-বন্ধু কাজ
তোমার বাড়ির বারান্দা,ছাদ বা উঠোনে একটি ছোট পাত্রে পরিষ্কার পানি রেখে দাও।
হয়তো কোনো পাখি তোমার অপেক্ষাতেই আছে।

আজকের প্রশ্ন
তুমি কি কখনো পাখির জন্য পানি বা খাবার রেখেছ?

-রাহি