আইভরি কোস্টের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে জার্মানি। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ডেনিজ উনদাভের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিল বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর টানা দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। তাই এবারের টুর্নামেন্টে দলটির ওপর ছিল বাড়তি চাপ। সেই চাপের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়ে নায়ক বনে যান উনদাভ।
ম্যাচ শেষে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগলেসম্যান উনদাভের প্রশংসায় ভাসিয়ে বলেন, তার এমন নিখুঁত সমাপ্তি একজন ফরোয়ার্ডের জন্য আদর্শ উদাহরণ। পরের ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ম্যাচের ৩০তম মিনিটে প্রথমে এগিয়ে যায় আইভরি কোস্ট। তরুণ প্রতিভা ইয়ান ডায়মন্ডের দুর্দান্ত পাস থেকে কাছ থেকে বল জালে পাঠান ফ্র্যাঙ্ক কেসি। ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাবের নজরে থাকা ডায়মন্ডের সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগিয়ে লিড নেয় আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।
প্রথমার্ধে দুইবার বল জালে পাঠিয়েও হতাশ হতে হয় জার্মানিকে। ২১ মিনিটে কর্নার থেকে আলেক্সান্দার পাভলোভিচ গোল করলেও গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের অভিযোগে সেটি বাতিল হয়। পরে ৩৮ মিনিটে কাই হাভার্টজের জাল খোঁজা শটও গণনায় আসেনি, কারণ আক্রমণ গঠনের সময় ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচ কর্মকর্তা।
বিরতির পর পুরোপুরি বদলে যায় জার্মানির খেলার ধরণ। আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। অবশেষে ৬৮ মিনিটে নাদিয়েম আমিরির ক্রস থেকে চমৎকার ভলিতে সমতা ফেরান উনদাভ।
সমতায় ফেরার পরও আক্রমণ থামায়নি জার্মানি। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ফেলিক্স নেমেচার পাস ধরে আবারও জাল কাঁপান উনদাভ। তার সেই গোলেই নিশ্চিত হয় নাটকীয় জয় এবং শেষ ৩২-এ ওঠার টিকিট।
দুই ম্যাচ শেষে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসে এখন জার্মানি। দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিল নাগলেসম্যানের শিষ্যরা।
অন্যদিকে, পরাজিত হলেও আইভরি কোস্টের আশা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কুরাসাওকে হারাতে পারলে তাদের সামনে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা জেগে থাকবে।
জার্মানি, উনদাভ, বিশ্বকাপ