শিশুদের শিক্ষা ও সুস্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৬-১৯ ২৩:৫০:০০
image

শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সৃজনশীল বিকাশে বিনিয়োগকে জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কেবল পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চাও একটি দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে সমানভাবে প্রয়োজন।
আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন বৃহৎ ক্রীড়া আয়োজন অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দলগত চেতনা, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মবিশ্বাস বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতারকে পাঠ্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তার মতে, শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন নয়, ব্যবহারিক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি ও অতিরিক্ত মোবাইল ফোন নির্ভরতার মতো সামাজিক সমস্যা থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রণীত নীতিমালার আওতায় দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার শিক্ষার্থী এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ লাখ ৯২ হাজার বালক এবং ৫২ লাখ ৫৭ হাজার বালিকা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতাটিতে ছেলে ও মেয়ে উভয় দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। চলতি বছরে সারা দেশে বালক ও বালিকা বিভাগ মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা আয়তন ও অংশগ্রহণের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব, যারা একসময় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।
বাণীর শেষে তিনি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

কী-ওয়ার্ডস:
শিশু শিক্ষা,গোল্ডকাপ ফুটবল,খেলাধুলা,তারেক রহমান,প্রাথমিক বিদ্যালয়