শেষ বাঁশি বাজার আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত বাকি। ম্যাচ যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই নাটকীয় এক মুহূর্তে ঘানাকে জয় এনে দেন ক্যালেব ইরেনকি। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে তার করা একমাত্র গোলে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আফ্রিকার দলটি।
‘এল’ গ্রুপের এই ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল সমানে সমান লড়াই। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে গোলের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করে। তবে প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় উভয় শিবির।
বিরতির পর কিছুটা বিপাকে পড়ে ঘানা। দলের নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার পরিবর্তে দায়িত্ব নেন বেনজামিন আসারে। হঠাৎ এই পরিবর্তনের পরও রক্ষণে দৃঢ়তা ধরে রাখে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা এবং আক্রমণেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোতে থাকে। পানামাও নিজেদের রক্ষণভাগ সুসংগঠিত রেখে একটি মূল্যবান পয়েন্টের আশায় ছিল। কিন্তু নাটকীয়তা জমা ছিল শেষ মুহূর্তের জন্য।
অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ঘানার সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান ক্যালেব ইরেনকি। তার সেই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে হজম করা গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ আর পায়নি পানামা।
শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসবে মেতে ওঠেন ঘানার ফুটবলার, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকেরা। চলতি বছরের এপ্রিলে দলের দায়িত্ব নেওয়া কোচ কার্লোস কুইরোজও আনন্দে মাঠে নেমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দেন। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন শুধুই ঘানার বিজয়োল্লাস।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের মঞ্চে হতাশার বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না পানামা। টুর্নামেন্টে নিজেদের খেলা চারটি ম্যাচের সবকটিতেই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে তাদের। আর শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হারায় এই ম্যাচের আক্ষেপ আরও বাড়িয়েছে।
এই জয়ের ফলে ‘এল’ গ্রুপে তিন পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ডের সমতায় উঠে এসেছে ঘানা। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তারা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। চার গোলের দাপুটে জয়ে ক্রোয়েশিয়াকে হারানো ইংল্যান্ড অবস্থান করছে শীর্ষে। অন্যদিকে পয়েন্টশূন্য পানামা ও ক্রোয়েশিয়া যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
কী-ওয়ার্ডস: ঘানা,ক্যালেব ইরেনকি,পানামা,বিশ্বকাপ ২০২৬, এল গ্রুপ