প্রতিশোধ নয়,দেশ গড়ার মানসিকতা দরকার: সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৬-১৬ ২৩:৩৫:০৬
image

প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে জাতীয় উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতের অন্যায় বা নির্যাতনের প্রতিশোধ নেওয়ার চিন্তা কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং দেশের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনে অনেক অন্যায়-অবিচারের শিকার হলেও প্রতিশোধ গ্রহণে সেই ক্ষতি পূরণ হয় না। তাই ব্যক্তিগত ক্ষোভের পরিবর্তে দেশের জন্য কী করা যায়, সেই চিন্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসবে।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার অতীতেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেছে এবং বর্তমান সরকারও সেই ধারা বজায় রাখতে চায়। সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা বা গঠনমূলক আলোচনা গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনায় ১৬ জুনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কঠোরভাবে সংকুচিত করা হয়েছিল। বর্তমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে উন্মুক্ত পরিবেশে মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়াকে তিনি ইতিবাচক পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এসব মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার একা সফল হতে পারে না। কোথায় সমস্যা রয়েছে, কোন কাজ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করছে না কিংবা কোন উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে—এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের গঠনমূলক পরামর্শ সরকারের কাজকে সহজ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তরুণ সমাজের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, মাদকাসক্তি বর্তমানে দেশের জন্য উদ্বেগজনক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। শুধু আইন প্রয়োগ বা চিকিৎসা দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; এজন্য তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিতর্কচর্চা এবং সৃজনশীল কার্যক্রম তরুণদের সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে খেলার মাঠের সংকট রয়েছে। এই বাস্তবতা দূর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি আয়োজিত শিক্ষা বিভাগের একটি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এমন আয়োজন তরুণদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হলেও গণমাধ্যমে তা পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তুলতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী মেলা আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানান।
সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সহিংসতা ও নিষ্ঠুরতার ঘটনাকে বিনোদন হিসেবে দেখার প্রবণতা সমাজে অস্বাভাবিক মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার চর্চা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং দেশের সামনে নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ব্যাপক চাপ অনুভব করছেন। তবে সেই চাপকে ইতিবাচকভাবে মোকাবিলা করে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা প্রতিশোধের পথ বেছে নেওয়ার কারণ হতে পারে না। বরং অতীতের ক্ষত ভুলে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার মধ্যেই দেশের অগ্রগতি নিহিত রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। মতবিনিময় সভায় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, উপদেষ্টা এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

কী-ওয়ার্ডস:
তারেক রহমান, গণমাধ্যম স্বাধীনতা, তরুণ সমাজ