চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
আবারও রাতের অন্ধকারে নৌকায়োগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের রোকনপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে পূণর্ভবা নদীপথে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিপুল সংখ্যক সীমান্তবাসীকে সাথে নিয়ে সেই চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। বেসামরিক মাঝিদের সহায়তায় এ চেষ্টা করে বিএসএফ বলে জানিয়েছে বিজিবি। পরে ওই নারী সীমান্তের শূণ্যরেখা বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়। মঙ্গলবার(১৬ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই নারী ওই অবস্থানেই ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ। এনিয়ে গত ১২ দিনের মধ্যে গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের বিএসএফ’র এটি তৃতীয় চেষ্টা। এদিকে সীমান্তবাসীকে সাথে নিয়ে বিজিবির ওই নারীকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অপরদিকে পুলিশ জানায়,পুশইনের ওই ঘটনায় সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশীকে আটক করেছে বিজিবি ও পুলিশ। গত সোমবার(১৫ জুন) দিবাগত রাতে পুশইন প্রতিহতের পরপরই ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি। মঙ্গলবার ভোররাত ৩টার দিকে তাঁদের গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। অপরদিকে একই অভিযোগে রাতব্যাপী পুলিশ অভিযানে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন রোকনপুর গ্রামের কালুমদ্দীনের ছেলে আজম(৩৫),একই গ্রামের মৃত নাইমুলের ছেলে আসমাউল হক (৩৩),মো.ধুলুর ছেলে মেসবাউল হক(৩৫),জমশেদ আলীর ছেলে মো. আলম(৩৮), রোকনপুর পশ্চিমপাড়ার মৃত দোস্ত মোহাম্মদের ছেলে বাবুল আক্তার, একই গ্রামের মৃত ওবাইদুর রহমানের ছেলে রয়েলে( ২৮) এবং রোকনপুর নগরপার্ড়া আব্দুল লতিফের ছেলে এমদাদুল হক জেন্টু।
গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম বলেন,পুশইনে সহায়তার অভিযোগে বিজিবির বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীণ। ওই মামলায় আটক ৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে।
বিজিবি জানায়, গত সোমবার(১৫ জুন) রাত পৌনে ১১টার দিকে রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২২৫/৩ আর এর নিকট দিয়ে ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আর কে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা ওই নারীকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবির তাৎক্ষনিক পদক্ষেপের ফলে বিএসএফ’র সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে (১৬ জুন,মঙ্গলবার) দায়িত্বশীল নওগাঁ ব্যাটালিয়নের(১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে সার্বক্ষনিক নজরদারি ও টহল অব্যহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মাত্র দুদিন পূর্বে গত ১৩ জানুয়ারী গভীর রাতেও একই সীমান্তে দিয়ে ১৫ জনকে একই নদীপথে নৌকাযোগে পুশইনের বিজিবির চেষ্টা সীমান্তবাসীর সহায়তায় ব্যর্থ হলে ২ ঘন্টার মাথায় তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। এর আগে গত ৪ জানুয়ারী গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বিএসএফ। টানা দুদিন সীমান্তে অবস্থানের পর গত ৬ জুন ওই ২৮ জনকে সীমান্ত থেকে ভারতে সরিয়ে নেয় বিজিবি। এর আগে গত ৬ এপ্রিল রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ২ নারীকে পুশইন করে বিএসএফ। গোমস্তাপুর সীমান্ত থেকে মালদহ নিকটে হওয়ায় এই সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ বারবার পুশইনের চেষ্টা করে বলে জানিয়েছেন লে.কর্নেল মাসুম।