কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে যাত্রীবাহী নৌকায় ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা ও থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে ঢাকার সাভার, কামরাঙ্গীরচর ও মিঠামইন থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন এবং রামদা, লোহার রড, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মিঠামইন উপজেলার কাটখাল কাজীপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. জুলহাস উদ্দিন (৪৪), বজকপুর গ্রামের মো. হারেছ মিয়ার ছেলে ইছানুল হক ওরফে এহসানুল হক ফকির (২৬) এবং বড়কান্দা মধুপুর গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩১)।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ৭ জুন মিঠামইন নৌঘাট থেকে ২০-২২ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা করিমগঞ্জের বালিখলা নৌঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে হাসানপুর ব্রিজের দক্ষিণ পাশে আবহাওয়া খারাপ থাকায় নৌকাটি প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে।
পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় রওনা দেওয়ার পরপরই ১০-১২ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে এসে যাত্রীবাহী নৌকাটির গতি রোধ করে। ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যাত্রীদের মোবাইল ফোন ও মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়।
এ ঘটনায় ১৫ জুন নৌকার মাঝি জামাল মিয়া বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।মামলা দায়েরের পর মিঠামইন থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকার সাভার থেকে ইছানুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরাঙ্গীরচর থেকে মো. জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, তাঁদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ওই রাতেই মিঠামইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের আরেক সদস্য রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে ডাকাতদের গোপন আস্তানা থেকে লুণ্ঠিত পাঁচটি মোবাইল ফোন, যার মধ্যে একটি বাটন ফোন, ডাকাতিতে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌকা, রামদা, লোহার রড এবং ছোট-বড় ২০টি বল্লম উদ্ধার করা হয় বলে জানান মিজানুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নাজমুস সাকিব এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল হক উপস্থিত ছিলেন।