কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা কমান্ড কাউন্সিল।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংগঠনের জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপি জমা দেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এটি প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১১ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদার ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দেশের সব মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের আহ্বায়ক এ কে এম ফজলুর রহমান, জেলা সদস্য বশির উদ্দিন ফারুকী, জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদ ইসলাম জানু এবং সদস্য দেলোয়ার হোসেন মজনু।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. সারোয়ার আলম বাবুর স্বাক্ষর রয়েছে। এছাড়া স্মারকলিপির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার, পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।