ভালোবাসা এলেই প্রতিটি সন্ধ্যা হয় শ্রাবণ সন্ধ্যা
কন্ঠে ভাসে লীলাময় পাত্র
প্যাচপ্যাচে কাদা ঝেড়ে প্রজাপতির ডানায় ভর করে উড়ে যেতে ইচ্ছা হয়
দিঘির পাড় কিংবা চৌরাস্তার মোড়ে জল সরিয়ে
অপার্থিব চাওয়া হয়ে সামনে দাঁড়ায় এক পলকের দেখা।
ভালোবাসা এলেই প্রতিটি দিনের নাম হয় ফাগুন
শীত ঘুমের খোলস ছেড়ে কৃষ্ণচূড়ার মতো ফুটে ওঠে প্রেমিক
সূর্যের তাপকে অতিক্রম করে ঠোঁটের উষ্ণতা
একটা চুম্বনের জন্য বাজি রাখা হয় বাকি সব কাজ,
ভালোবাসা এলেই বস্তির কুঁড়ে ঘরে নেমে আসে বায়রনের চাঁদ
আধপেটা খেয়ে সারারাত বুকে মাথা রেখে ঘুমায় আমিনা আর রহিম
সমস্ত অন্ধকারকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয় শুষ্ক আঙুলের ডগা,
ভালোবাসা এলেই কবির কলমে কাব্য আসে
শব্দ ভাসে মুহূর্তের ব্যবধানে
দীর্ঘদিনের বন্ধ্যাত্ব ভাঙে নতুন নতুন সৃষ্টিতে
অঝোরে সৃষ্টি হয় কবিতা
একটা, দুটো, তিনটে---
ভালোবাসা এলেই রুক্ষ মরুতে ফোটে স্নিগ্ধ অ্যাডেনিয়াম
তৃষ্ণা জাগে বুকে
প্রগাঢ় অন্ধকারে ডাক দিয়ে যায় আলেয়া
প্রতিটি প্রেমিককে প্রতিজ্ঞায় বাধে ফারহাদ
প্রতিটি প্রেমিকার মধ্যে জেগে উঠে শিরিন,
ভালোবাসা এলেই বিষন্নতা দূর করে উঁকি মারে আবেগ
সাদা কালো চুলের পঞ্চাশের মনও হয় সবুজ
নিখাদ সঙ্গী পেলে বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করে অনন্তকাল
জীর্ণ পেশী হয়ে ওঠে নবীন
ভ্রমণ করতে ইচ্ছে হয় বিশ্ব চরাচর,
ভালোবাসা এলেই মনে হয় "এই পথ যদি না শেষ হয়
তবে কেমন হতো তুমি বলতো?"