শান্তিচুক্তি মানলে ইরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের পথ খুলতে পারে: ভ্যান্স

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-১৫ ২১:৪৫:২১
image

ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচিত শান্তি সমঝোতার শর্ত পূরণ করে, তাহলে দেশটির জন্য বিপুল অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হলে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ইরান প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থায়নে গঠিত একটি তহবিল থেকে এই সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভ্যান্সের মতে, সমঝোতার আওতায় নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে ইরান আবার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে-একদিকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির মূলধারায় ফিরে আসা, অন্যদিকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। তবে দ্বিতীয় পথ বেছে নিলে দেশটিকে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হতে হবে।
এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জানান, ইরানের দাবি অনুযায়ী ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি চুক্তির অংশ নয়। তবে এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সম্পদ অবমুক্ত করার প্রশ্নটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।
মার্কিন এই নেতা আরও দাবি করেন, চুক্তিকে ঘিরে ইরানের কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে সুবিধাগুলোর দিকটি বেশি তুলে ধরতে পারে, কিন্তু এর বিপরীতে গৃহীত অঙ্গীকারগুলো তুলনামূলকভাবে আড়ালে রাখার চেষ্টা করবে।
ইসরায়েলের কিছু আপত্তির খবর সামনে এলেও ভ্যান্স মনে করেন, সমঝোতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার ভাষায়, পুরো চুক্তির পাঠ প্রকাশিত হলে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
তিনি বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে শুধু বর্তমান সংকট নিরসন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য গঠনের ভিত্তিও তৈরি হতে পারে। উপসাগরীয় মিত্র রাষ্ট্রগুলোও এটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।
ভ্যান্স জানান, চুক্তির মূল ভিত্তি হচ্ছে কঠোর পর্যবেক্ষণ ও যাচাই ব্যবস্থা। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে সরে থাকলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আন্তর্জাতিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি আবারও তৈরি হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের মতে, নতুন এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও স্থিতিশীল হবে।

কী-ওয়ার্ডস: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি,জেডি ভ্যান্স,পুনর্গঠন তহবিল