'আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে' স্লোগানকে ধারণ করে নজরুল মঞ্চে উদীচীর বর্ষা উৎসব ১৪৩৩

  • মঞ্জুর মোর্শেদ মিল্টন
  • ২০২৬-০৬-১৫ ১৯:৪৯:৩৬
image

বর্ষার চিরন্তন রূপ, আমাদের জীবন-প্রকৃতি আর সংস্কৃতিতে এর গভীর প্রভাবকে উদযাপন করতে প্রতিবারের মতো এবারও বর্ণিল আয়োজনে সেজেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আজ ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ (১৫ই জুন ২০২৬, সোমবার) সকাল ৭:৩০ মিনিটে ঢাকার বাংলা একাডেমির ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বর্ষা উৎসব ১৪৩৩।
আষাঢ়ের প্রথম সকালে ওস্তাদ জাবীর ইমাম খান শাহী’র রাগ ‘মিয়া কি মল্লার’-এর সুরমূর্ছনায় শুরু হয় উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে পরিবেশিত হবে বর্ষার গান, কবিতা আর নাচের মনোহরী সব পর্ব।
উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে উদীচীর কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগ ছাড়াও সমবেত সংগীত পরিবেশন করবে উদীচীর উত্তরা ও ডেমরা শাখা। বিশিষ্ট রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত শিল্পী অনিমা রায়, আবদুল ওয়াদুদ এবং রুদ্র দাশ এর কণ্ঠে ছিলো বিশেষ পরিবেশনা। লোকগানের সুরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন বিমান বিশ্বাস, মায়েশা সুলতানা উর্বি, মীর সাখাওয়াত, হুমায়রা তাসিন ও জাকির হোসেন।
নৃত্যের ছন্দে উৎসবকে রাঙিয়ে তোলে ফেরদৌস হোসেনের পরিচালনায় ‘বহর’ এবং অনিক বসুর পরিচালনায় ‘স্পন্দন’ নৃত্যদল। এছাড়াও কবিতা আবৃত্তিতে অংশ নেন সজীব তানভীর।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ছিল ‘বর্ষা কথন ও আলোচনা’ পর্ব। এবারের বর্ষাকথন উপস্থাপন করেন উদীচীর সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য  একরাম হোসেন।  বর্ষা কথনে অংশ নেন লেখক, গবেষক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নঈম ওয়ারা, উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন। গওহর নঈম ওয়ারা  বর্ষ শুধু উপভোগের জিনিস নয় বর্ষা হচ্ছে কাজের সময়, উদ্দীপনার সময় । কৃষক বর্ষায় বজ্রপাত উপেক্ষা করেও মাঠে যাচ্ছে কাজ করতে। আমরা যদি বর্ষাকে বর্ষার মতো চলতে না দেই, আমরা যদি নদী কে নদীর মত চলতে না দেই তাহলে তো হবে না। আমরা যেভাবে নদীকে নষ্ট করছি, পদ্মার পানি প্রত্যাহার হচ্ছে রাজশাহী শহরকে বাঁচানোর জন্য, খুলনায় পদ্মার পানি প্রত্যাহার হচ্ছে খুলনাকে বাঁচাতে। এই যে নদীকে সাগরে পৌঁছাতে না দেয়া, প্রেমিকের যেমন অধিকার আছে প্রেমিকার কাছে পৌঁছানোর, নদীর তেমন অধিকার আছে সাগরের কাছে পৌঁছানোর। সেই পানিটুকু আমরা রাখছি না, তাহলে কীভাবে বর্ষা এসে নদীকে সাগরের কাছে নিয়ে যাবে। এবং সাগরের কাছে যদি আমার নদী পৌঁছাতে না পারে আমার সুন্দরবন থাকবে না। জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন প্রকৃতি ধ্বংস কারী সকল আয়োজনের বিপক্ষে সর্ব্বদা উদীচীর অবস্থান থাকবে।
পুরো উৎসবটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মৌমিতা জান্নাত, সজীব তানভীর এবং রুমি দে।
নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝে প্রকৃতির এই অনন্য উৎসবের আনন্দ ও দ্রোহের আয়োজনে শামিল হয়ে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষেরা এক রাশ প্রশান্তির ছোয়া পায়। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এই অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত সকল শিল্পী, অতিথি ও সংবাদ কর্মীদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।