সিরিজ বাংলাদেশের, শেষ হাসি অস্ট্রেলিয়ার

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-১৪ ১৯:৪০:১৪
image

মিরপুরে শেষ ম্যাচে জয়ের সুবাস পেয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ একদিনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১ উইকেটে হেরেছে স্বাগতিকরা। তবে আগের দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের দখলেই রেখেছে বাংলাদেশ।
শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৭৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণে ছিল সফরকারীরা। বিশেষ করে ওপেনার কুপার কোনোলির অনবদ্য ব্যাটিং ম্যাচকে একতরফা করে তুলেছিল। ৪৫ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান, হাতে তখনও ৫ উইকেট।
ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু সেখান থেকেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে শুরু করে বাংলাদেশের বোলাররা। ৪৬তম ওভারে শরিফুল ইসলামের জোড়া আঘাতে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পরের ওভারেও আরেকটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরান এই বাঁহাতি পেসার।
নাটকীয়তা আরও বাড়ে ৪৯তম ওভারে। মোস্তাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত ১৪৯ রানে থাকা কোনোলিকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান। অস্ট্রেলিয়া মুহূর্তেই ২৬৬ থেকে ২৭১ রানে পৌঁছাতে চার উইকেট হারিয়ে ফেলে। ফলে শেষ ওভারে দরকার হয় ৩ রান।
চূড়ান্ত উত্তেজনার সেই ওভারে বল হাতে আসেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম দুই বলে মাত্র ১ রান দেন তিনি। তবে তৃতীয় বলেই অ্যাডাম জাম্পা সীমানা ছাড়ানো শট খেললে ১ উইকেটের নাটকীয় জয় নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার।
এর আগে রান তাড়ায় শুরুতেই দুই উইকেট হারালেও কুপার কোনোলির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। ক্যারিয়ারের প্রথম একদিনের শতক তুলে নেওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটার ১৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত ফিরলে ৬১ রানেই ৩ উইকেট হারায় দল।
সংকটের মুহূর্তে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। চোটের কারণে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে অর্ধশতক পূর্ণ করেন লিটন দাস, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে।
শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেনের ঝড়ো ব্যাটিং বাংলাদেশের সংগ্রহকে শক্তিশালী করে। ৪৩ বলে অর্ধশতক ছুঁয়ে তিনি ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। লিটন ও মোসাদ্দেকের অপরাজিত জুটিতে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান তোলে বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত সেই রান জয়ের জন্য যথেষ্ট না হলেও সিরিজ জয়ের আনন্দ ম্লান হয়নি। শেষ ম্যাচে হারলেও ইতিহাস গড়া সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।

কী-ওয়ার্ড: বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া,সিরিজ জয়,শরিফুল ইসলাম,কুপার কোনোলি,মিরপুর ক্রিকেট।