রামিসা হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির হাইকোর্টে আপিল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৬-০৬-১৪ ১১:২৭:১০
image

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুন হাইকোর্টে জেল আপিল দায়ের করেছেন। রোববার তাদের আপিল আবেদন গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। এর আগে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে সেই দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে তা বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান অনুযায়ী আসামিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
মামলার তদন্ত শেষে গত ২৫ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। পরে ১ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
পরদিন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা বাসার জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না খাতুনকে আটক করে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২১ মে সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালতের নির্দেশে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কী-শব্দ: রামিসা হত্যা,হাইকোর্ট আপিল,মৃত্যুদণ্ড