চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
এবার গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাধানগর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের রোকনপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে পূণর্ভবা নদী পথে নৌকাযোগে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে সেই চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি। পরে বিএসএফ তাঁদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছে বিজিবি। এদিকে গভীর রাতে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সীমান্তে জড়ো করে বিজিবিকে পুশইন ঠেকাতে সাহায্য করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। গত ১০ দিনের মধ্যে গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের বিএসএফ’র এটি দ্বিতীয় চেষ্টা।
বিজিবি জানায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে (শনিবার,১৩ জুন) রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি এর নিকট দিয়ে ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৫ শিশু,৮ নারী ও ২ জন পুরুষকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবির তাৎক্ষনিক ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে বিএসএফ’র সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ওই সময় ওই ১৫ জন সীমান্তের শূণ্য লাইন বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল। বিজিবি আরও জানায়, পরে বিজিবির আরও দৃঢ় অবস্থান ও কঠোর তৎপরতার কারণে শনিবার ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে বিএসএফ’র কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ১৫ জনকে আর সীমান্তে দেখা যাচ্ছে না। সংশ্লিস্ট ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, রাত ১টার দিকে বিজিবির নিকট থেকে খবর পেয়ে এলাকায় মাইকিং করে লোক জড়ো করে বিজিবিকে পুশইন ঠেকাতে সাহায্য করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ সহ এলাকাবাসী সারারাত ক্লান্তিহীন পাহারার পর এখনও সতর্ক রয়েছে। সম্মিলিত চেষ্টায় পুশইনের চেষ্টা করা ১৫ জনকে হটিয়ে দেয়া হয়েছে।
শনিবার ভোরে পৌনে ৫টার দিকে দায়িত্বশীল নওগাঁ ব্যাটালিয়নের(১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেণ্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে সার্বক্ষনিক নজরদারি ও টহল অব্যহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অবৈধ পারপার প্রতিরোধে বিজিবি সার্বক্ষনিক সতর্ক রয়েছে এবং পেশাদরিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরণের কোন অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবি বদ্ধ পরিকর বলেও জানান অধিনায়ক মাসুম।
উল্লেখ্য এর আগে গত ৪ জানুয়ারী গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে টানা দুদিন সীমান্তে অবস্থানের পর ওই ২৮ জনকে সীমান্ত থেকে ভারতের ভেতরে সরিয়ে নেয় বিজিবি। এর আগে গত ৬ এপ্রিল রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ২ নারীকে পুশইন করে বিএসএফ। গোমস্তাপুর সীমান্ত থেকে মালদহ নিকটে হওয়ায় এই সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা করে বলে জানিয়েছেন লে.কর্নেল মাসুম।