ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা,বাড়ছে যুদ্ধ বিস্তারের শঙ্কা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-০৮ ১০:১৯:৪৬
image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। উত্তর ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, পশ্চিম ও মধ্য ইরানের একাধিক কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। হামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট স্থাপনা।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ ও ইসফাহান এলাকায় বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শোনা গেছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার রাতে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পর উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে হামলার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক এই সংঘাতের পেছনে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী অভিযানের পর থেকেই নতুন হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ইসরায়েল।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। সরকারবিরোধী নেতারা আরও কঠোর জবাবের দাবি তুলেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট মন্তব্য করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এবং জাতীয় সক্ষমতা প্রদর্শনের সময়।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলেও বাড়ছে উদ্বেগ। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি আরও অবনতি হোক তা চায় না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে বৃহৎ পরিসরের প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে দুর্বল বলে সমালোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সংঘাত শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কী-ওয়ার্ডস: ইরান-ইসরায়েল সংঘাত,মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা