রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে শেষ হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
রোববার সংসদে বিধি-৩০০ এর আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ, পুলিশের দ্রুত তদন্ত এবং বিচার বিভাগের সক্রিয় সহযোগিতার ফলে স্বল্পতম সময়ে মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, গত ১৯ মে আট বছর বয়সী রামিসা নির্মম নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নেমে মূল দুই অভিযুক্তকে আটক করে। একই সঙ্গে সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর শোকাহত পরিবার বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিল। তবে সরকার শুরু থেকেই দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে এই রায়ের মাধ্যমে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মামলার অগ্রগতির বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। একই দিন মামলাটি সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রতিরক্ষা আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
বিচারকাজে বিলম্ব এড়াতে বিশেষ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, আদালতের অবকাশকাল ঘনিয়ে এলেও প্রধান বিচারপতির সহযোগিতায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির বাইরে রাখা হয়। ফলে মামলার শুনানি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মামলার সময়সূচি অনুযায়ী ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আসামিপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয় এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। আজ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।
আদালত উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্য পর্যালোচনা করে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল এবং তার সহযোগী স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, এই রায় বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করবে। তিনি জানান, রায় ঘোষণার পর নিহত শিশুর বাবা বিচারিক প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
সরকার নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
কী-ওয়ার্ড: রামিসা,দ্রুত বিচার,মৃত্যুদণ্ড