নীরব ঘরের ইতিবৃত্ত

  • জেমী
  • ২০২৬-০৬-০৪ ১১:২০:২০
image

জানালার কাঁচে জমে থাকা ধুলো
একদিন আর ধুলো থাকে না
সে হয়ে ওঠে সময়ের ক্ষুদ্র জীবাশ্ম,
আঙুলের অনুপস্থিতি দিয়ে
লিখে যায় এক দীর্ঘ বিস্মরণের বৃত্তান্ত।

ঘরটি ধীরে ধীরে শিখে নেয়
কীভাবে মানুষের অনুপস্থিতিকে
আসবাবের মতো সাজিয়ে রাখতে হয়।
চেয়ার তার শূন্যতাকে বহন করে,
টেবিলের উপর উপুড় হয়ে থাকে
একটি অসমাপ্ত বিকেল,
আর কাপের তলায় শুকিয়ে যাওয়া চায়ের দাগ
পলির মতো জমে থাকে
হারিয়ে যাওয়া কথোপকথনের স্মৃতিতে।

বাইরে পৃথিবী তার স্বভাবমতো বদলায়।
শহরের শরীরে জ্বলে ওঠে
নতুন আলোর শিখা
মানুষের নামের সঙ্গে যুক্ত হয়
পদমর্যাদা, উপাধি, দূরদেশের নাগরিকত্ব
যেন সবাই কোনো না কোনো মানচিত্রে
নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে নিচ্ছে।

শুধু একটি ঘর
মানচিত্রের বাইরে পড়ে থাকে।
সেখানে আয়নাটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে
এক বৃদ্ধ সাক্ষীর মতো।
প্রতিদিন সে মুখোমুখি হয়
একটি ক্রমশ ফাঁকা হয়ে যাওয়া অস্তিত্বে।

দেখে কাঁধের উপর ধুলো পরে,
দেখে পোকামাকড়েরা
দেহকে ভেবে নেয় ভূগোল,
দেখে চোখের জল
ধীরে ধীরে খনিজে পরিণত হয়।
তবু কিছু বলে না।
কারণ আয়নার কোন ভাষা নেই,
শুধু প্রতিফলন আছে।

তারপর একদিন
নীরবতা এত ঘন হয়ে ওঠে
যে তাকে আর নীরবতা বলা যায় না
সে হয়ে যায় সংবাদ।

করিডোর ভরে যায় পায়ের শব্দে,
প্রশ্নের ভিড়ে,
বিলম্বিত উদ্বেগের অভিনয়ে।
মানুষ কারণ খোঁজে,
দোষ খোঁজে,
একটি মাত্র ঘটনার মধ্যে
বহু বছরের অনুপস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে চায়।

কিন্তু ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা আয়না জানে, 
কোনো ঘটনাই হঠাৎ ঘটে না।
বিস্মৃতি প্রথমে আসে
ধুলোর বেশে,
তারপর নীরবতার,
তারপর অভ্যাসের।
আর যখন মানুষ টের পায়,
ততদিনে শূন্যতা কখন
নিজের স্থায়ী ঠিকানা বানিয়ে ফেলেছে।

আয়না সব দেখে।
দেখে মানুষের আসা,
দেখে মানুষের চলে যাওয়া,
দেখে কান্নার জল,
দেখে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ।
তারপর সন্ধ্যা নামে।
আলো সরে গেলে
সে আবার কেবল কাঁচ হয়ে যায়
স্মৃতিহীন, নিরপেক্ষ, নির্লিপ্ত।
যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলোও
শেষ পর্যন্ত
একটি প্রতিফলনের চেয়ে বেশি কিছু নয়।

টরন্টো /জুন ০৩, ২০২৬